হোম > সারা দেশ > লক্ষ্মীপুর

স্বামীর মৃত্যুর ৩ মাসের মাথায় ছেলেকে হারালেন, মামলা করায় হুমকির অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রাইভেট পড়তে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি সাদ আল আফনানের। প্রাইভেট পড়ে বন্ধুদের সঙ্গে চলে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে। হঠাৎ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে গুলি চালানো হয় শিক্ষার্থীদের ওপর। এক সহপাঠীকে বাঁচাতে গিয়ে আফনান গুলিবিদ্ধ হন। সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়েন মাদাম ব্রিজের ওপর। এরপর আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি আফনান।

সবার চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান আফনান। এমন মৃত্যু মানতে পারছে না তাঁর সহপাঠী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আফনানের শোকে মায়ের আর্তনাদ থামছে না।

নিহত আফনান লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাস টার্মিনাল এলাকার সালেহ আহম্মদ ও নাছিমা আক্তারের ছেলে। আফনান লক্ষ্মীপুর ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী।

এদিকে সাদ আল আফনান হত্যায় সদ্য অপসারণকৃত লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপুকে প্রধান করে ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৫০০-৭০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ১৪ আগস্ট রাতে আফনানের মা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন।

এতে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের পদধারী নেতাদের নামও রয়েছে। মামলার আসামিরা আত্মগোপনে থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভয়ে বাসায় তালা দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আফনানের বিধবা মা নাছিমা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় আফনানের মা নাছিমা আক্তারের সঙ্গে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আজকের পত্রিকা বলেন, ‘তিন মাস আগে স্বামী সালেহ আহমদ বিদেশে মারা গেছেন। সেই শোক সইতে না সইতে ছেলেকে হারালাম। সন্ত্রাসীরা আমার মেধাবী ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। মামলা করেছি, এখন বিভিন্ন মোবাইল ফোন নম্বর থেকে আমাকে ও আত্মীয়স্বজনদের হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নিতে। এমন পরিস্থিতিতে কার কাছে যাব আমরা।’ ছেলের জন্য সরকারের কাছে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবি জানান তিনি। তাঁদের আর দেখার কেউ নেই বলে অচেতন হয়ে পড়েন নাছিমা।

আফনানের বোন জান্নাতুল মাওয়া তাঁর মাকে আগলে ধরে বলেন, ‘আদরের ভাইটিকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতাম। তিন মাসের ব্যবধানে বাবা ও ভাইকে হারিয়েছি। স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেছে আফনানের সাইকেলটি।’ তবে সরকারের কাছে ভাই হত্যার কঠোর বিচার দাবি করেন তিনি।

সেই দিনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে সাদ আল আফনানের সহপাঠীরা জানায়, প্রাইভেট পড়তে গিয়ে কলেজের ব্যাগ কাঁধে নিয়েই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যান আফনান। হঠাৎ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। সহপাঠী এক শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন আফনান। একপর্যায়ে তিনি মাদাম ব্রিজের ওপর লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে আফনান মারা যান।

আফনান হত্যায় এজাহারভুক্ত বাকি ৭৪ জন আসামির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রকি, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া, জেলা কৃষক লীগের সদস্যসচিব ও বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন লোটাস, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সেবাব নেওয়াজ, লাহারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাইফুল হাসান পলাশ।

প্রসঙ্গত, ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে লক্ষ্মীপুরের মাদাম ব্রিজ এলাকায় আফনান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। ১৪ আগস্ট রাতে আফনানের মা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৭০০ জন আসামি করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপুকে প্রধান আসামি করা হয়। টিপু ও জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন আলমের শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

৯ জুলাই যোদ্ধা চাকরি পেলেন চট্টগ্রাম বন্দরে

১০ বছর পর দম্পতির কোলজুড়ে একসঙ্গে পাঁচ সন্তান

‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন’

টেকনাফে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়, মাথার খুলির এক পাশ খুলে রাখা হয়েছে

মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মিলনমেলা

চট্টগ্রামে নালা থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

সড়ক থেকে উদ্ধার সেই শিশু দাদির জিম্মায়, বাবা কারাগারে

চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় ১০ জনের যাবজ্জীবন

মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি: টেকনাফের গুলিবিদ্ধ শিশুটি লাইফ সাপোর্টে

ফেনী হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে রান্না করার ঘটনায় দুই নার্স বরখাস্ত