চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চোরাচালানকারী চক্রের অন্যতম প্রধান সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ। গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি একই ইউনিয়নের আমলীঘাট এলাকার আমান উল্লাহর ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান কাজের সঙ্গে জড়িত। এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী একটি চক্রের অন্যতম সক্রিয় ব্যক্তি। বাংলাদেশের নাগরিক হলেও তিনি বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন না। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভারতীয় একটি মোবাইল নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে কল করতে হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তিনি ভারতে বিয়েও করেছেন বলে জানা যায়।
পুলিশ সূত্রে জানায়, মিরসরাইয়ের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রবেশ করে। এ চক্রের সঙ্গে কামাল উদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। জোরারগঞ্জ থানায় ভারতীয় পণ্য জব্দের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, করেরহাট ইউনিয়ন ও আশপাশের পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভারতীয় চিনি, ফেনসিডিল, শাড়ি, থ্রি-পিস, গরু, হরলিক্স, চকলেটসহ বিভিন্ন পণ্য পাচার করে থাকে। তাঁদের দাবি, কামাল উদ্দিন ছাড়াও আরও কয়েকজন এ চক্রে সক্রিয় রয়েছেন।
সম্প্রতি জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করে। গত ২৪ জুন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়। এরপর ২৮ জুন ১৮০টি ভারতীয় শাড়ি এবং ৩০ জুন ১৯টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘কামাল উদ্দিন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি ভারতীয় সিম ব্যবহার করতেন এবং ভারতে বিয়ে করেছেন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’