চট্টগ্রামে গৃহবধূ আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তার আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় তাঁর স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রাম প্রথম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হান্নানের আদালত এ আদেশ দেন। এদিকে আসামিদের হেফাজতে থাকা মুক্তার আড়াই বছর ও সাত মাস বয়সী দুই শিশু সন্তানকে দেখাশোনার কেউ না থাকায় তাদেরও কারাগারে যেতে হয়েছে।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন আরিফুল ইসলাম জিফাত (২৯), তাঁর মা মনোয়ারা বেগম (৪৫) এবং বোন নাদিয়া আক্তার (৩২)। দুই শিশু হলো আরিফুল ইসলাম জিফাতের আড়াই বছরের ছেলে আরাফ এবং সাত মাস বয়সী কন্যা জাইফা ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে গেলে তিন আসামির আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। সে সময় শিশু দুটির দেখাশোনার জন্য অন্য কেউ উপস্থিত না থাকায় তাদেরও আসামিদের সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চন্দনাইশ পৌরসভার হাজিপাড়া এলাকায় নিজ শয়নকক্ষ থেকে আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তা নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মনির আহমদ বাদী হয়ে চন্দনাইশ থানায় চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় যৌতুকের দাবিতে ওই গৃহবধূকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। আসামি করা হয় নিহতের স্বামী আরিফুল ইসলাম জিফাত, শ্বশুর হাছান আলী, শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম এবং ননদ নাদিয়া আক্তারকে।
পিবিআই মামলাটি তদন্ত করে তিন আসামির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালত তা গ্রহণ করেন। গত ৬ মে আদালতে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে পিবিআই উল্লেখ করে, স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণে ভুক্তভোগী আয়েশা ছিদ্দিকা মুক্তা নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর দৌলা বলেন, `চন্দনাইশে গৃহবধূ আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আজ তিন আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে পরে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসময় আসামিদের হেফাজতে থাকা আড়াই বছর ও সাত মাস বয়সী দুই শিশুকে দেখাশোনা করার কেউ না থাকায় তাদেরকেও কারাগারে যেতে হয়েছে।'
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফোরকান মোহাম্মদ বলেন, `মানবিক দিক বিবেচনায় তিন আসামির জামিন চাওয়া হয়েছিল। কারণ, ভিকটিমের দুই নাবালক সন্তান বর্তমানে আসামিদের হেফাজতে বড় হচ্ছে। আসামিরা কারাগারে গেলে শিশু দুটির দেখাশোনা করার মতো অন্য কেউ নেই। তবে আদালত আমাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।'
অ্যাডভোকেট ফোরকান মোহাম্মদ আরও জানান, মায়ের মৃত্যুর পর বাবা, দাদি ও ফুফুই শিশু দুটিকে লালন-পালন করছিলেন। বর্তমানে তাদের দেখভালের আর কেউ না থাকায় দুই শিশুকেও দাদি ও ফুফুর সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর দৌলা জানিয়েছেন, শিশু দুটিকে নানির জিম্মায় দিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করা হবে। তিনি বলেন,`আসামিদের সঙ্গে শিশু দুটির কারাগারে থাকার বিষয়টি অমানবিক। কোন অপরাধ না করে, এতটুকু বয়সে অবুঝ শিশুরা কারাগারে গেছে। তাই শিশু দুটিকে তাদের নানির জিম্মায় নিতে আদালতে পিটিশন দাখিল করা হবে।'