দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় খোলা বাজারের (ওএমএস) চাল কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন দিনমজুর তপন মালাকার এর স্ত্রী শিখা মালাকার (৩৮)। লাইনে দাঁড়ানোর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ক্রেতাদের ভিড়ের চাপে পড়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আজ সোমবার (১৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার পৌর সদরের কলেজ রোড সংলগ্ন ডিলার গোলাম রব্বানীর দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিখা মালাকারের স্বামীর বাড়ি নোয়াখালী। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে পৌর সদরের নিজতালুক এলাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পৌর প্যানেল মেয়র হারাধন চৌধুরী বাবু।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওএমএসের চাল কিনতে যাওয়া একই এলাকার বাসিন্দা মিলন দাস জানান, সকালে তারা দুজনে ওএমএসের চাল কিনতে ডিলার রব্বানীর দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়ান। লাইনে দাঁড়ানোর কিছুক্ষণ পর ক্রমশই লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে চাল শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় হুড়োহুড়ি শুরু করেন তারা। এতে ভিড়ের চাপে পড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিখা মালাকার। পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ডিলার গোলাম রব্বানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে খোলা বাজারে চাল দেওয়ার নিয়ম হলেও লোকজন ৮টায় দোকানের সামনে এসে ভিড় জমান। চাল বিতরণ আগে তাদের সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড় করানো হয়। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাল শেষ হয়ে যাওয়ায় মিথ্যা গুজবে তারা হুড়োহুড়ি শুরু করেন। এতে ভিড়ের চাপে পড়ে ওই নারী জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।’
পৌর প্যানেল মেয়র হারাধন চৌধুরী বাবু জানান, ওএমএসের চাল কিনতে গিয়ে ভিড়ের চাপে পড়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। পৌর সদরের কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে মরদেহের সৎকার করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। ভিড়ের চাপে পড়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।