চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জিন্নাত আরা বেগম (২৬) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ গ্রামে স্বামীর বসতঘর থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পুলিশ ওই গৃহবধূর স্বামী মো. ওমর ফারুককে (৩০) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, অভিযুক্ত স্বামীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ওই নারীর গলায় ফাঁস নেওয়ার প্রস্তুতিকালের একটি ভিডিও তাঁর স্বামীর মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, জিন্নাত আরা বাঁশখালী উপজেলার জলদি মিয়ার বাজার এলাকার মো. হোসেনের মেয়ে। দুই বছর আগে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ গ্রামের মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে আট মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বাবার বাড়ি বাঁশখালী থেকে আনোয়ারার শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন জিন্নাত আরা। এরপর সোনা বন্ধক রাখা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তাঁর তর্কবিতর্ক হয়। গতকাল স্বামী বাইরে গেলে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন জিন্নাত। পরে তিনি বন্ধ ঘরের ভেতর আত্মহত্যার চেষ্টা করলে বাইরের জানালা দিয়ে স্বামী নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার ও স্বামীকে আটক করে। পরে স্বামীর মোবাইল ফোনটি জব্দ করলে ধারণ করা ভিডিওটি পায় পুলিশ।
ওসি জুনায়েত চৌধুরী জানান, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী স্বীকার করেন, স্ত্রীর আত্মহত্যার ভিডিওটি নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন তিনি এবং দরজা খোলার জন্য চিৎকারও করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের পরিবার থেকে কেউ মামলা করেননি বলেও জানান ওসি।