চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে শিক্ষা সফরে গিয়ে এক স্কুলছাত্রী (১৬) নিঁখোজের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার কক্সবাজার সমূদ্রসৈকতে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থী উপজেলার আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ও মায়ানী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে মিরসরাই আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক-কর্মচারী মিলে মোট ১৭৫ জন তিনটি বাসে করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়।
পরদিন (সোমবার) বেলা ৩টার দিকে কক্সবাজার থেকে ফেরার সময় শিক্ষার্থীদের বাসে উঠতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় তিনটি বাসে শিক্ষার্থীরা ওঠার পর দেখা যায়, ৪–৫ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। পরে তাদের খুঁজে এনে বাসে তোলা হয়।
তবে সবশেষে ওই শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। শিক্ষকেরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশকে অবহিত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে ছাড়াই শিক্ষা সফরের দলটি মিরসরাইয়ে ফিরে আসে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘আমরা অশিক্ষিত মানুষ। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়েকে পিকনিকে কক্সবাজারে নিয়ে গেছে। এত দূরের সফরে এত শিক্ষার্থী নিয়ে গেলেও প্রধান শিক্ষক যাননি। এখন পর্যন্ত মেয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই সহকারী শিক্ষক রতন বাবু নাকি ফেরার সময় পথিমধ্যে নেমে যান, এতগুলো ছেলে-মেয়ে রেখে।
‘পরে একজন শিক্ষক আমাকে ফোন করে জানান, আমার মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি তখন বলেছি, আপনারা দায়িত্ব নিয়ে আমার মেয়েকে নিয়ে গেছেন, দায়িত্ব নিয়েই তাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। আমি কি সেখানে গিয়ে মেয়েকে খুঁজে আনতে পারব? যদি দায়িত্ব নিতে না পারেন, তাহলে কেন পিকনিকে নিয়ে গেলেন? এ ধরনের দায়িত্বহীন কাজ কীভাবে করলেন?’
শিক্ষা সফরের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রধান শিক্ষক রতনের কাছে মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে শিক্ষা সফর শেষে ফেরার সময় রোল ডেকে একজন শিক্ষার্থীকে মিসিং পাওয়া যায়। তাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছি। পরে কক্সবাজার সদর থানায় মিসিং ডায়েরি করি।’
পিকনিকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘গাড়ি ছাড়ার কিছুক্ষণ আগেও আমাদের শিক্ষার্থীরা তাকে গাড়িতে বসে কাপড় পরিবর্তন করতে দেখে। এর আগে তাকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের সঙ্গে কথা বলতে দেখে জিজ্ঞাসা করা হলে যুবকটি তার আপন ভাই বলে পরিচয় দেয়।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌস হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আপনার মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি, খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।’