কক্সবাজারের চকরিয়ায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় ৬ ভাই নিহতের ঘটনায় গাড়িটির মালিক মাহমুদুল করিম প্রকাশ বাদলকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে আজ মঙ্গলবার ভোররাতে তাঁকে আটক করা হয়।
আটক বাদল ওই এলাকার শামসুল আলমের ছেলে।
পিবিআই কক্সবাজারের পরিদর্শক মো. এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পিকআপ মালিক চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়ায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে গোপন সংবাদ আসে। ওই দিন তিনি চকরিয়ার পূর্ব বড়ভেওলার বাড়িতে চলে আসেন। পরে তাঁর নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
এর আগে ঘটনার তিন দিন পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি গাড়িটির চালক সহিদুল ইসলাম সাইফুলকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পরদিন সাইফুলকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মালুমঘাট হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করে র্যাব। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে আদালতে উপস্থাপন করে সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন।
আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চালক সাইফুল ইসলাম রিমান্ড শেষে কক্সবাজার জেলা কারাগার রয়েছেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজীব কুমার দেব মামলাটি অধিকতর তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক স্বাস্থ্য পরিদর্শক সুরেশ চন্দ্র সুশীলের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাটের নার্সারি গেট এলাকায় পিকআপ ভ্যান চাপায় নিহত হন ছয় ভাই অনুপম সুশীল, নিরুপম সুশীল, স্মরণ সুশীল, দিপক সুশীল, চম্পক সুশীল ও রক্তিম সুশীল।
এতে গুরুতর আহত হন তাদের বোন হীরা সুশীল। তাঁর মধ্যে প্লাবন সুশীল সুস্থ হলেও মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। বোন হীরা সুশীল এখনো মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।