প্রথমে যাত্রী সেজে ভাড়া নিতেন অটোরিকশা। পথে কৌশলে চালককে চেতনানাশক খাওয়াতেন। একপর্যায়ে চালক অচেতন হয়ে পড়লে অটোরিকশা ছিনতাই করে পালিয়ে যেতেন চক্রের সদস্যরা। দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি এভাবেই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করে আসছেন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চেতনানাশক খাইয়ে অটোরিকশা চালক আইয়ূব আলীকে (৫৫) হত্যা করে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার জড়িত চক্রের ২ সদস্যকে গতকাল রোববার গ্রেপ্তার করেছে আনোয়ারা থানা পুলিশ। চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে থানা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. জামাল ওরফে গালকাটা জামাল (৫২) ও মো. আব্দুল জব্বার (৩১)। তাঁদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার জামাল আন্তঃজেলা চেতনানাশক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চেতনানাশক প্রয়োগ করে অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল উপজেলার পরৈকোড়া এলাকায় ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পর চক্রের সদস্যরা চালককে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়ার আটদিন পর গত ২৭ এপ্রিল সকাল দশটায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চালক মো. আইয়ূব আলী (৫০)। তিনি পরৈকোড়া ইউনিয়নের মৃত আবদুস ছত্তারের ছেলে।
এ ঘটনায় অটোরিকশার মালিক আলী আহাম্মদ বাদী হয়ে গত ৬ মে আনোয়ারা থানায় হত্যা, চেতনানাশক দ্রব্য প্রয়োগ ও চুরির অভিযোগে মামলা করেন। সে মামলায় পুলিশ চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল রোববার রাতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চেতনানাশক খাইয়ে ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছেন।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। দুপুরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।’