চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কলাপাতা কাটাকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে ঘুষিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বিল্লাল হোসেন (৫০) নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত নৌ সদস্য আবুল বাশার (৬৩) এবং তাঁর দুই ছেলে সাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমাম হোসেন (৩০)।
এর আগে গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামে রমজান আলী লিটনের দোকানের সামনে আবুল বাশারের ঘুষিতে বিল্লাল হোসেন নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কাউসার হোসেন বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আবুল বাশার ও তাঁর দুই ছেলেকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে নিহত বিল্লাল হোসেন ছাগলের খাবারের জন্য একই বাড়ির চাচাতো ভাই আবুল বাশারের কলাগাছ থেকে পাতা কাটেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবুল বাশারের ছেলে সাহাদাত হোসেন থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করেন।
এর জের ধরে গতকাল জুমার নামাজ শেষে ইছাপুর গ্রামের রমজান আলী লিটনের দোকানের সামনে বিল্লাল হোসেনকে দেখতে পেয়ে আবুল বাশার ও তাঁর দুই ছেলে তাঁকে ঘিরে ধরে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে আবুল বাশার বিল্লালকে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিস হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিল্লাল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত আবুল বাশার ও তাঁর দুই ছেলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করার পর দুপুরে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।