ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া গ্রামের প্রবাসী কাউছার হোসেন (৪০)। গত বুধবার (২৫ মার্চ) ওমানের রুস্তাক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে তাঁর মরদেহ দেশে আনতে বিপাকে পড়েছে পরিবার। মরদেহ দেশে আনার খরচ ও পরিবারের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।
কাউছার হোসেন কড়ইয়া গ্রামের নুর মিয়া সওদাগর বাড়ির আমির হোসেনের মেজ ছেলে। তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রবাসে পাড়ি জমান কাউছার। গত ১৯ মার্চ ওমানে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। দুর্ঘটনার পরপরই তাঁকে স্থানীয় রুস্তাক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দিন ভর্তি থাকার পর গত বুধবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বাবার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে তাঁর অবুঝ তিন কন্যা। ছোট্ট টিনের ঘরে বসবাস করা পরিবারটি এখন মরদেহ দেশে আনার জন্য মানবিক সহায়তা কামনা করছে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, অর্থের অভাবে এখনো মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন তাঁরা।
নিহত ব্যক্তির স্ত্রী জান্নাত আক্তার বলেন, ‘প্রবাসে আমার স্বামীর অকালমৃত্যুতে সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে। স্বামীর মরদেহটি যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। আমার স্বামী আমাদের জন্য প্রবাসে গিয়েছিল। এখন আমরা অসহায় হয়ে গেছি। আমার তিনটি মেয়ে প্রতিদিন বাবার জন্য কাঁদে। আমি শুধু চাই, তার মরদেহ দেশে এনে দাফন করতে পারি।’ মরদেহ দেশে আনার খরচ ও পরিবারের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
নিহত ব্যক্তির বাবা আমির হোসেন জানান, ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এখন সেই ঋণের বোঝা ও ছেলের মৃত্যুর শোক—দুই মিলিয়ে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। ছেলের লাশ দেশে আনার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।’