চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাব্দেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই মেধাবী শিক্ষার্থী ছুবহা মেহজাবিন ও তানহা আফরিন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। তারা সম্পর্কে যমজ বোন। একই বিদ্যালয় থেকে একই সময়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনের এমন সাফল্যে পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকাজুড়ে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় ছুবহা ও তানহা। বর্তমানে তারা রূপসা আহাম্মদিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ছুবহা ও তানহা উপজেলার রুদ্রগাঁও পাটওয়ারী বাড়ির স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন পাটওয়ারী ও গৃহিণী শামীমা আক্তার দম্পতির দুই কন্যা। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ ও নিয়মিত চর্চা এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
ছুবহা ও তানহা বলেন, ‘আমরা একই দিনে পৃথিবীতে এসেছি এবং একসঙ্গে বেড়ে উঠছি। একই বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে দুজনেই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ায় আমরা খুব আনন্দিত। এই সাফল্যের জন্য বাবা-মা ও শিক্ষকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’
তাঁরা আরও বলেন, ভবিষ্যতে তারা ডাক্তার হতে চায়। নিজেদের স্বপ্ন পূরণে সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছে তারা।
মা শামীমা আক্তার বলেন, ‘মেয়েরা মোবাইল ব্যবহার করলেও প্রয়োজন শেষে আমি তা নিয়ে নিতাম। বর্তমান সময়ে অনেক শিশু-কিশোর মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। অভিভাবকেরা যদি সন্তানদের সময় দেন এবং পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করেন, তাহলে তারা অবশ্যই ভালো কিছু করতে পারবে।’
বাবা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা, মেয়েরা শিক্ষার ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাদের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সবার কাছে দোয়া চাই।’
গাব্দেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাভলী রায় বলেন, ‘ছুবহা ও তানহার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও নম্র আচরণ প্রশংসনীয়। তারা শুধু মেধাবী নয়, ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলছে। তাদের এই অর্জনে আমরা শিক্ষকেরা গর্বিত। ভবিষ্যতেও তারা আরও ভালো করবে বলে আশা করি।’