চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, নারী কেলেঙ্কারি ও সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার তিনি নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওঅ্যান্ডএম) মোহাম্মদ নাজির উল্লাহ নারী কেলেঙ্কারিতে জনতার হাতে আটকের পর মুচলেকায় ডিজিএমের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডিজিএম সাইফুল বলেন, ‘আমি কোনো বক্তব্য দেব না।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, প্রায় ১৩ মাস আগে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে ডিজিএম হিসেবে যোগ দেন সাইফুল আলম। যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি অফিসে অনিয়মিত। নানা সমস্যার ভুক্তভোগী গ্রাহকদের জিম্মি করে নানা প্রলোভনে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনই এক ভুক্তভোগী ফরিদগঞ্জ পৌরসভার একজন নারী গ্রাহক। বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে ডিজিএমের কার্যালয়ে গেলে ডিজিএম তাঁকে কৌশলে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী প্রথমে রাজি না হলেও বিদ্যুতের সেবা পেতে পরে রাজি হন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ডিজিএমকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দেয়।
এর আগে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চির্কা গ্রামের ব্যবসায়ী ফরিদ মিজি ডিজিএম সাইফুলের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ তুলে ১২ মে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পল্লী বিদ্যুতের সেবার জন্য রশিদের বাইরে ডিজিএম তাঁর কাছে অতিরিক্ত ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন।
কোমলকান্দি গ্রামের এক নারী গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতিরিক্ত বিল আসায় অফিসে গেলে তাঁকে আবেদন করতে বলা হয়। আবেদন নিয়ে ডিজিএমের কাছে গেলে তিনি বলেন, ‘বোরকার মুখোশ খুলতে।’ এ সময় তাঁর কথায় সাড়া না দিলে ডিজিএম অসদাচরণ করেন।
সাহেবগঞ্জ গ্রামের কাউসার আহমেদসহ কয়েকজন বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক গ্রামবাসীর বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে দালালের মাধ্যমে ঘুষ দাবি করেন ডিজিএম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মকর্তা ও একাধিক কর্মচারী বলেন, ডিজিএম নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করেন, প্রতিবাদ করলে চাকরি হারানোর ভয় দেখান।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ৪ নম্বর এলাকার সাবেক সভাপতি আলী আজম রেজা বলেন, ‘ডিজিএমের অসদাচরণ ও নানা অনিয়মের বিষয়ে আমি ইতিমধ্যে প্রতিবাদ করেছি এবং পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডকেও জানিয়েছি। নারী কেলেঙ্কারির বিষয়টিও জিএমকে (মহাব্যবস্থাপক) জানিয়েছি। আশা করি, তিনি ব্যবস্থা নেবেন।’
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘ডিজিএমের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মৌখিক অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।’
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমি এই জেলায় নতুন যোগদান করেছি। ডিজিএম সাইফুল আলমের বিষয়ে খোঁজখবর নেব। অনিয়ম পেলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’