ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়ি বাড়ি ঘুরে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন মৌসুমি ব্যবসায়ী হেলাল মিয়া। মনে আশা ছিল, কষ্ট করে সংগৃহীত এই চামড়াগুলো বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবেন। কিন্তু ঈদের পর দুই দিন হন্যে হয়ে ঘুরেও কোনো ক্রেতা পেলেন না তিনি। লাভ করা তো দূরের কথা, শেষমেশ মূলধন হারিয়ে চরম লোকসানে পড়লেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাই ক্ষোভ আর হতাশায় সংগৃহীত পশুর শতাধিক চামড়া তিতাস নদীতে ফেলে দেন তিনি।
আজ রোববার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার আমোদাবাদ এলাকার তিতাস নদীর পাড়ে গিয়ে বেশ কিছু কোরবানির পশুর চামড়া ভাসমান অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চামড়াগুলো নদীতে ফেলেছেন হেলাল মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি মূলত পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
চামড়া কেনাবেচায় অভিজ্ঞ হেলাল মিয়া এবার এক পরিচিত ব্যবসায়ীর আশ্বাসে মাঠে নেমেছিলেন। তিনি জানান, ওই ব্যবসায়ীর পরামর্শ ও চামড়া কিনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে এবার প্রতিটি চামড়া ২০০ টাকা দরে কিনেছিলেন। এভাবে মোট ১২৫টি চামড়া কেনেন হেলাল মিয়া। কিন্তু চামড়া সংগ্রহের পর সেই ব্যবসায়ী হঠাৎ জানিয়ে দেন, তিনি চামড়াগুলো নেবেন না।
হতাশ হয়ে হেলাল মিয়া বলেন, ‘আমি খুব বিপাকে পড়ে যাই। পরে আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কেউ চামড়া নিতে রাজি হয়নি। দুই দিন ধরে চামড়াগুলো সংরক্ষণ করে রেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত বিক্রির কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ১০৫টি চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছি। আর মাত্র ২০টি চামড়া কোনোমতে লবণ মাখিয়ে রেখেছি।’
চামড়াগুলো বিক্রি করতে না পেরে প্রায় ২৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে জানিয়ে হেলাল মিয়া বলেন, ‘চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে এখন সরকারের সুদৃষ্টি দেওয়া খুব দরকার।’
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সিঙ্গারবিল বাজার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস ছাত্তার মিয়া বলেন, ‘চামড়া আমাদের দেশের একটি মূল্যবান জাতীয় সম্পদ। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ সাধারণত গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গরিব মানুষেরাও তাদের হক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের চামড়া শিল্পকে রক্ষা করতে নতুন সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জোর দাবি জানান তিনি।