বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগে অভিযুক্ত বগুড়ার শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব আম্বীয়া অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনুর কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাড গোলাম ফারুক।
জানা যায়, কয়েক দিন আগে আহসান হাবীব আম্বীয়ার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে শোনা যায়, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ সারা দেশে ৩০ টির বেশি আসন পাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। আরেক জায়গায় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মাজার ভ্রাম্যমাণ করে ঘুরে বেড়ালেও মানুষ নৌকায় ভোট দেবে না। এ ছাড়া ওই অডিওতে দলীয় বিভিন্ন গোপন সিদ্ধান্ত ও কৌশল সম্পর্কেও তাঁকে মন্তব্য করতে শোনা যায়।
এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁর অপসারণের দাবিতে গত ২৬ নভেম্বর কয়েক শ নেতা-কর্মী শেরপুরের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ ছাড়া একই দাবিতে আহসান হাবীব আম্বীয়ার কুশপুত্তলিকা দাহসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলাপচারিতা রেকর্ড করে ফাঁস করাকে অন্যায় বলে অনেকে দাবি করেছেন। অবশেষে গতকাল রাতে আম্বীয়া নিজে থেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ভাইরাল হওয়া অডিও সম্পর্কে আম্বীয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু খানপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছেন। এ জন্য আমাকে বহিষ্কারও করা হয়। এখন তাঁরই কিছু ভাড়াটে লোক আমার বিরুদ্ধে মিছিল করছে। তাঁরা আমার নামে একটি মিথ্যা অডিও রেকর্ড প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি কোথাও কোনো কটূক্তি করি নাই।
পদত্যাগের কারণ জানতে আহসান হাবীব আম্বীয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যার কারণে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।