বগুড়ার ধুনটে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় মুন্নি খাতুন (৩২) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী নুর সালামের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নুর সালামকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে শেরপুর উপজেলার মধ্যভাগ গ্রামের মুনজিল হোসেনের মেয়ে মুন্নির সঙ্গে ধুনট উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে নুর সালামের বিয়ে হয়। পরে তাঁরা মথুরাপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। নুর সালাম কাঠের ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। একপর্যায়ে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মারধরের ঘটনা ঘটত। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিসও হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আজ দুপুরে মাদক সেবন নিয়ে প্রতিবাদ করায় মুন্নিকে মারধর করেন নুর সালাম। একপর্যায়ে মারধর সহ্য করতে না পেরে মুন্নি ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় নুর সালাম তাঁর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে ঘরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে শ্বাস রোধ হয়ে মুন্নির মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখে ফেললে নুর সালাম ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করেন।
মুন্নির বাবা মুনজিল হোসেন বলেন, ‘নুর সালাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় আমার মেয়েকে কয়েক দফা মারধর করেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিসও হয়েছে।’
ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বলেন, নুর সালাম আগে থেকেই মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধর ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার ও নিহত মুন্নির স্বামীকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মুন্নির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে হত্যা মামলা করা হবে।