ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি সেতু সরিয়ে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় চার বছর আগে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় দুই বছর ধরে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু দিয়েই চলাচল করছে যানবাহন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার ধুনট-শেরপুর সড়কের পৌর এলাকা পশ্চিম ভরণশাহী-চরপাড়া মোড়ে রইচ খা দহের ওপর আশির দশকে নির্মাণ করা হয় একটি কাঠের সেতু। ১৯৮৪ সালের বন্যায় সেতুটি ভেঙে পড়ে যায়। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে চলাচলের জন্য স্টিলের পাটাতন দিয়ে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংস্কারের অভাবে স্টিলের পাটাতন অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে কোনো রকমে মেরামত করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ওই সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করে। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ধুনট-শেরপুর সড়কের ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভরণশাহী-চরপাড়া রইচখা খালের (দহ) ওপর ঢালাই সেতু নির্মাণের জন্য ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৫ মিটার এবং প্রস্থ ১০.৩ মিটার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে ২০২৩ সালে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু সেতুর নির্মাণস্থানের ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা দেখা দেয়। এতে প্রায় দুই বছর ধরে সেতু নির্মাণের বাকি কাজ বন্ধ রয়েছে।
এ অবস্থায় সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু দিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।
গ্রামের বাসিন্দা ও জমির মালিক বেলাল হোসেন খা বলেন, ‘সেতু নির্মাণে আমাদের কোনো বাধা নেই। সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে সেতুর জায়গায় ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের এ পর্যন্ত কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। তবে কী কারণে সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে তা আমরা জানি না।’
এ বিষয়ে বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করে কাগজপত্র জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে সেখান থেকে জমির মালিকেরা তাঁদের পাওনা মূল্য এখন পর্যন্ত বুঝে পায়নি। এ কারণে সেতুর নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের মূল্য বুঝে পেলেই মালিকদের সঙ্গে কথা বলে সেতু নির্মাণের বাকি কাজ শেষ করা হবে।’