ভোলার চরফ্যাশনে চর শশীভূষণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রায় পাঁচ হাজার পিস সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) মাওলানা মো. ওমর ফারুককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। নোটিশে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল খায়ের।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে বন্ধ থাকা চর শশীভূষণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার পিস সরকারি পাঠ্যবই সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে বইগুলো আটক করেন। তাদের দাবি, ওই সময় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. ওমর ফারুক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বরাদ্দ দেওয়া বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিক্রির উদ্দেশ্যেই সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। পরে বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘একটি শ্রেণিকক্ষ খালি করার প্রয়োজন হওয়ায় আমি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বইগুলো সরানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এগুলো ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বই নয়। স্থানীয়রা ভুল বুঝে আপত্তি জানালে আমি সেখান থেকে চলে আসি।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’