বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পুলিশি নির্যাতনে গ্রেপ্তারকৃত আসামির মৃত্যু হয়েছে—এমন গুজব তুলে প্রকাশ্যে থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতভর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আজ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান।
ওসি মাসুদ বলেন, হামলার ঘটনার পর থেকেই থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি ফুল্লশী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানা-পুলিশের একটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, হাজতখানায় থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই দেয়ালের সঙ্গে নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাত ১১টায় তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে তাঁকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার আগে কয়েক শ জনতা মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়।
এ সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগম অভিযোগ করেন, তাঁদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। এ মারধরে রিয়াজের মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ওসি মাসুদ বলেন, ‘মৃত্যুর খবরটি গুজব ছিল। বরং রিয়াজ নিজেই থানার হাজতের দেয়ালে মাথায় আঘাত করে আহত হয়। সে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’