বরিশাল সরকারি বিএম কলেজে ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণকাজের শেষ পর্যায়ের ঢালাই বন্ধ করে দিয়েছেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। আজ সোমবার সন্ধ্যায় কলেজের অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। কাজের মান নিয়ে আপত্তি তুলে কাজ বন্ধ করেন তাঁরা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অহনা এন্টারপ্রাইজের সাবঠিকাদার সাদ রহমান বলেন, ছাত্রাবাসের সাড়ে ৪০০ ফুট সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। কাজ পরিদর্শন করে কলেজের অধ্যক্ষ, প্রকৌশলী ও হল সুপার সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। আজ মাত্র ৩০ ফুট অংশের ঢালাই বাকি থাকতেই ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দেন।
সাদ রহমানের অভিযোগ, এ সময় প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের সহকারীর গায়ে হাত দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অভিযোগ ছিল না।
তবে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের বলেন, সড়ক নির্মাণে ঠিকাদার নির্ধারিত মান বজায় রাখছেন না। কাজের প্রাক্কলন বা এস্টিমেট অনুযায়ী নির্মাণ হচ্ছে না বলে শিক্ষার্থীরা কাজ বন্ধ করেছেন। তাঁর দাবি, বালু ফেলার সাত দিনও অপেক্ষা না করে ঢালাই দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বালু ফেলার কত দিন পর ঢালাই দিতে হবে, এমন নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। বালু ঠিকভাবে বসেছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক তাসনিম বলেন, ‘কাজটির দরপত্র হয়েছে অনেক আগে। ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য—নির্মাণকাজে ত্রুটি রয়েছে এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে হবে।’
ছাত্রাবাসের হল সুপার এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রকৌশলীদের অনুমতি নিয়েই ঠিকাদার কাজ করছিলেন এবং কাজ ঠিক ছিল। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়বে, কারণ ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিএম কলেজে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য আসেনি। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগও করেননি।