বরিশালের সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেছেন। এ সময় তাঁরা সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের অপসারণ এবং তালুকদার ইউনুসের জামিন বাতিলের দাবি জানান।
আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীরা এই বিক্ষোভ করেন। তাঁরা সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত আদালত বর্জন করেন। এতে দুর্ভোগে পড়েন বিচারপ্রত্যাশীরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার ইউনুস আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনে এবং ২০১৪ সালে বরিশাল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তালুকদার ইউনুসের বিরুদ্ধে একটি মামলা থাকায় গতকাল সোমবার বরিশাল অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিনের আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে বিচারক এস এম শরিয়ত উল্লাহ তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর পরপরই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ক্ষুব্ধ হন। আজ তাঁরা মহানগর সংশ্লিষ্ট সব আদালত বর্জন করেন। বেলা ১১টার দিকে আইনজীবীরা আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। পূর্বঘোষণা ছাড়া আদালত বর্জন করায় দুর্ভোগে পড়েন বিচারপ্রত্যাশীরা।
জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ও আইনজীবী হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার মো. ইউনুসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি জামিন অযোগ্য। তিনি আত্মসমর্পণ করলে বিচারক রহস্যজনক কারণে জামিন দেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা মহানগর আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন; যা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
হাফিজ আহমেদ বাবলু আরও বলেন, এতে ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা তালুকদার ইউনুসকে জামিন আদেশ দেওয়া বিচারক অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহর অপসারণ ও জামিন বাতিলের দাবিতে মহানগরের সব আদালত বর্জন করেছেন।
বরিশাল মহানগর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, ‘তাঁরা (বিএনপিপন্থী আইনজীবী) তালুকদার ইউনুসের জামিনের বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু বিচারক জামিন আদেশ দেওয়ায় আমাদের করণীয় ছিল না।’
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক কাইউম খান কায়সার জানান, তালুকদার ইউনুসের বিরুদ্ধে মাত্র একটি মামলা রয়েছে। নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার সরোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি ২০২৫ সালে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। এজাহারে ২০১৭ সালে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা ও তাঁকে আহত করার অভিযোগ করা হয়। ওই মামলায় তালুকদার ইউনুসকে হুকুমের আসামি হিসেবে ৩ নম্বরে তাঁর নাম ছিল।