বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চুরির মামলায় গ্রেপ্তার রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় পুলিশের এএসআইসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহত ব্যক্তি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে (২৬) একটি চুরির মামলায় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর থানার জেলহাজতে বসে রিয়াজ নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে রাত ১১টায় তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চেতন না ফেরায় গভীর রাতে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ দুপুরের পর চিকিৎসাধীন রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর রিয়াজের আত্মীয়স্বজনসহ শতাধিক লোক বিকেলে মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে হামলা চালান। এ সময় থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০) ও বোন শারমিন আক্তার (২৮) এবং মমতাজ বেগম (৪৭) নামের এক নারীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মিছিলকারীদের হামলায় থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসআই আব্দুল হালিম এবং কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় এএসআই আব্দুল হালিমকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং শারমিন আক্তার ও মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত প্রতিপক্ষের কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। যার জন্য গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জেলখানায় বসে গতকাল রাতে নিজেই মাথায় আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যার কারণে পরিকল্পিতভাবে রিয়াজের আত্মীয়স্বজনসহ শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করেন। থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।