বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই ইউনিয়ন পরিষদের ছয় ইউপি সদস্য এই অভিযোগ করেছেন।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) তাঁরা ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৭৬৫। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাচ্চু তালিকার সঙ্গে আরও ৭১ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৮৩৬ জন জেলের তালিকা ইউএনওর কার্যালয়ে জমা দেন।
সরকার জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। সে অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রতিজনের জন্য ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়।
তালতলী খাদ্যগুদাম থেকে ৮৩৬ জন জেলের নামে মোট ৬৬ দশমিক ৮৮০ টন চাল ছাড় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে ৭৬৫ জন জেলেকে ৬১ দশমিক ২০০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। অন্য ৭১ জন জেলের নামে বরাদ্দ করা ৫ দশমিক ৬৮০ টন চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার, খলিলুর রহমান, পিযুষ কান্তি হাওলাদার, পুলুকেশ হাওলাদার, মনির গাজী ও সংরক্ষিত নারী সদস্য মাহমুদা আক্তার ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।
ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার বলেন, কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে নিবন্ধিত ৭৬৫ জন জেলে রয়েছেন। তাঁদের জন্য ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সরকার ৬১ দশমিক ২০০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান ৭১ জনের ভুয়া তালিকা তৈরি করে ৫ দশমিক ৬৮০ টন চাল আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, ৮৩৬ জন জেলের নামে বরাদ্দ করা চাল উত্তোলন করে জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাঁর মানহানি করতেই এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’