বরগুনার তালতলী থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য মো. ফারুক গাজী (৫২) চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে তালতলী ব্যারাকের একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ফারুক গাজীর পরিহিত জামার পকেট থেকে বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু মেনে নিয়েছি। অযথা কাউকে হয়রানি করবে না।’
সে সঙ্গে পরিবারের স্ত্রী, পুত্র, মেয়ে, মেয়ের জামাই ও ভাইয়ের জন্য তাঁর মৃত্যুর পর করণীয় বিষয়ও লিখে গেছেন।
ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার উত্তর চরাইল গ্রামের মৃত রতন গাজীর ছেলে ফারুক গাজী গত ১০ মে তালতলী থানায় পুলিশ সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং থানার নতুন ব্যারাকে রাত যাপন করতেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার রাতে তিনি ব্যারাকে ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই রাতেই তিনি গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ সকালে ঘুম থেকে না উঠলে অন্য পুলিশ সদস্যরা তাঁকে ডাকতে যান। কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সোহাগ বলেন, পুলিশ সদস্য ফারুক গাজীকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়েছিলেন।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, চিরকুট লিখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।