বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় যুবদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত ৯টার দিকে বাগেরহাট শহরের শহীদ মিনার-সংলগ্ন এলাকা থেকে সুমন পাইক (৪০) নামের ওই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমন পাইক বাগেরহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক। তাঁর বাড়ি শহরের খারদ্বার এলাকায়।
২০ মার্চ সন্ধ্যার আগমুহূর্তে শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর ঈদের দিন থেকে বাগেরহাট শহরের দুটি তেলপাম্প বন্ধ রয়েছে। রোববার বিকেলে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে ওই ঘটনার প্রতিবাদে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য পাম্প বন্ধ’-সংক্রান্ত ‘বিশেষ বিজ্ঞপ্তি’ টানিয়ে দেওয়া হয়।
এই বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়, বাগেরহাটের চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে লুটপাট, ভাঙচুর ও মালিক-কর্মচারীদের জীবননাশের উদ্দেশ্যে মারধর করে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
এই ঘটনায় পাম্পের অন্যতম মালিক মুর্শিদ কুলি খান বাদী হয়ে রোববার চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। গ্রেপ্তার সুমন পাইক ওই মামলার এক নম্বর আসামি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘তেলের বাড়তি চাপ ও সংকটের কারণে মোটরসাইকেলপ্রতি ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছিল। ২০ মার্চ সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পাম্পে তেল দেওয়ার সময় আসামিরা ফিলিং স্টেশনে অনধিকার প্রবেশ করে নিয়ম ভেঙে বেশি টাকার তেল দাবি করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। নিষেধ করা হলে সুমন পাইকের নির্দেশে আসামিরা আমাকে (মুর্শিদ কুলি খান) এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। তখন কর্মচারী তানবির মল্লিক, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. রেজোয়ান উদ্ধারে এগিয়ে এলে আসামিরা তাদেরও মারধর করে। এতে আমি, তানবির মল্লিক, মো. সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হই। এ সময় আসামিরা কর্মচারীদের কাছে থাকা তেল বিক্রির ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
মুর্শিদ কুলি খান বলেন, ‘পুলিশ প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা ডিপো থেকে তেল প্রাপ্তি সাপেক্ষে আগামীকাল থেকে পাম্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করব।’
বাগেরহাট মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, খান জাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মারধরের মামলায় এজাহার নামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করছে।