হোম > সারা দেশ > বাগেরহাট

সুন্দরবন: দস্যু আতঙ্কে কমছে মৌয়াল

• শরণখোলা থেকে ৭০ জন মৌয়াল মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন

• তবে মৌয়ালদের মধ্যে অনেকে মধু সংগ্রহ না করেই ফিরে আসেন

• সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় অপহরণের আতঙ্কে রয়েছেন তাঁরা

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 

পূর্ব সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হলেও বনদস্যুদের আতঙ্কে অনেক মৌয়াল মাঝপথে ফিরে আসছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

পূর্ব সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হলেও চলতি বছর আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বনদস্যুদের আতঙ্কে অনেক মৌয়াল সুন্দরবনে যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ মাঝপথেই ফিরে আসছেন।

গত রোববার শরণখোলা থেকে ৭০ জন মৌয়াল মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এর আগে যাঁরা যান, তাঁদের মধ্যে অনেকে মধু সংগ্রহ না করেই ফিরে আসেন। ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু হলেও এবার মৌয়ালদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় অপহরণ-আতঙ্কে রয়েছেন তাঁরা। এ পরিস্থিতিতে মধু ব্যবসায়ীরাও মৌয়ালদের আগাম দাদনের টাকা দিতে অনীহা দেখাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৌয়াল জানান, দস্যুদের কবলে পড়লে মুক্তিপণ হিসেবে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এ কারণে অনেকেই এ বছর মধু সংগ্রহে সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য নৌকার পাস নেননি।

শরণখোলার মধু ব্যবসায়ী আ. আজিজ মাস্টার, রাসেল বয়াতি, জালাল মোল্লা এবং চাঁদপাই এলাকার মো. অলিয়ার রহমান বলেন, গত কয়েক মাসে সুন্দরবনে কয়েকটি দস্যু বাহিনীর সক্রিয়তা বেড়েছে, যা মৌয়ালদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা (রেঞ্জার) মো. খলিলুর রহমান জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত ১০টি নৌকা নিবন্ধন করে পাস নিয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে ৬০টি নৌকা নিবন্ধন করে পাস নিয়েছিল। রোববার বিকেলে বনরক্ষীদের নিরাপত্তায় ১০টি নৌকায় ৭০ জন মৌয়ালকে সুন্দরবনে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার সুরজিত চৌধুরী জানান, তাঁর স্টেশন থেকে ১১টি নৌকায় ৮০ জন মৌয়াল সুন্দরবনে গেলেও একটি নৌকা তিন দিনের মাথায় ফিরে এসেছে। বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করায় তাঁরা ফিরে আসেন বলে জানান মৌয়াল কালাম খান।

চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার রবিউল ইসলাম জানান, তাঁদের স্টেশন থেকে ১৮টি নৌকায় ১৪৪ জন মৌয়াল গেলেও এর মধ্যে ৫টি নৌকা মধু সংগ্রহ না করেই ফিরে এসেছে।

পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতার কারণে এ বছর মৌয়ালের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মধু আহরণ সম্ভব নাও হতে পারে। এ বছর শরণখোলা রেঞ্জে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪৯ কুইন্টাল এবং মোম ১০৪ কুইন্টাল।

রেঞ্জ কর্মকর্তা আরও বলেন, মৌয়ালদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীরা কঠোর নজরদারি চালাবে। কোনো নৌকা দস্যুদের কবলে পড়লে দ্রুত বন বিভাগকে জানাতে মৌয়ালদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনে সাপের ছোবলে আহত, সাপ ধরে হাসপাতালে গেলেন জেলে

মোংলায় বানৌজাতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ২৩০ টন কয়লা পাচারের চেষ্টা, বাল্কহেডসহ আটক ৯

লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ ঘিরে আতঙ্ক, সতর্ক করতে মাইকিং

ধর্মীয় সম্প্রীতি ধরে রাখতে সংকীর্ণ মানসিকতা ছাড়তে হবে: প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন জুই, মরদেহ উদ্ধার

ফকিরহাটে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মোংলায় নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, ২ মাস পর গ্রেপ্তার ২

রামপালে প্রথমবারের মতো ক্যানসার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবা চালু

বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে চুরি, বিষক্রিয়ায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু