হোম > সারা দেশ > বাগেরহাট

বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে বাড়ছে দুর্ঘটনা: ফকিরহাটে সাড়ে তিন মাসে নিহত ১১

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফকিরহাটে যানবাহনের গতি পরিমাপ করছে হাইওয়ে থানা-পুলিশের একটি দল। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাগেরহাটের ফকিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে অন্তত ১১ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারী। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মহাসড়কে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পিলজংয়ের শ্যামবাগাত এলাকায় বাসের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী সুবীর দে (৬৫) নিহত হন। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হন।

এর আগে ২ জানুয়ারি পালেরহাট এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লাগলে বাসের সুপারভাইজার মো. সেলিম শেখ (৪৫) নিহত হন। আহত হন চালক মো. মুরাদ হোসেন (৪১) ও যাত্রী সোহাগ হাওলাদার (৪৪)।

১৬ জানুয়ারি টাউন-নওয়াপাড়া এলাকায় ট্রাকের চাপায় আবিদ মোড়ল (৬৫) নামের এক কৃষক নিহত হন। ২২ জানুয়ারি বড় খাজুরা এলাকায় বাসের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় এক পথচারী প্রাণ হারান।

২ ফেব্রুয়ারি ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশন-সংলগ্ন পুরোনো সড়কে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক কৌশিক দেবনাথ (২০) নিহত হন।

এ ছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্বরোড মোড়ে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি বাসের ধাক্কায় আহত পারভীন আক্তার (৪৫) পরে মারা যান।

১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্বরোড এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেলচালক হাসিব মোল্লা (২৫) নিহত হন। ৭ মার্চ কাকডাঙ্গা এলাকায় কালভার্টের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে ইশতিয়াক আহমেদ (৩৪) নিহত হন।

১৫ মার্চ টাউন-নওয়াপাড়া মোড়ে পিকআপ ভ্যানের চাপায় বাদল রায় চৌধুরী (৫৩) নিহত হন। ১ এপ্রিল বৈলতলী এলাকায় বাসের চাপায় ছাহাদ (১১) নামের এক শিক্ষার্থী মারা যায়। ৬ এপ্রিল পাগলা-শ্যামনগর সড়কে বাসের ধাক্কায় ইয়াছিন শেখ (৫৫) নিহত হন।

সড়ক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। ঢাকা-খুলনা, খুলনা-মোংলা ও খুলনা-বরিশাল মহাসড়কে উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে নির্ধারিত গতিসীমা (৪০ কিমি/ঘণ্টা) মানা হচ্ছে না। বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহন।

ফলতিতা, বিশ্বরোড মোড়, কানারপুকুর, পিলজংগ, টাউন-নওয়াপাড়া, খাজুরা, শ্যামবাগাতসহ উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও গতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করছেন চালকেরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

এ ছাড়া মহাসড়কে অনুমোদনহীন যান চলাচল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গতিরোধক ও ফুটওভার ব্রিজের অভাব, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অদক্ষ চালকেরাও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার (এসও) মো. শাহজাহান মিয়া জানান, প্রকৃত আহত ও নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহত ব্যক্তিদের পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেউ মারা গেলে সেই তথ্য রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয় না, যদি না এই ঘটনায় মামলা হয়।

মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, আইন অমান্য করা ও বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত চেকপোস্ট ও অভিযান পরিচালনা করছে।

সুন্দরবনে সাপের ছোবলে আহত, সাপ ধরে হাসপাতালে গেলেন জেলে

মোংলায় বানৌজাতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ২৩০ টন কয়লা পাচারের চেষ্টা, বাল্কহেডসহ আটক ৯

লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ ঘিরে আতঙ্ক, সতর্ক করতে মাইকিং

ধর্মীয় সম্প্রীতি ধরে রাখতে সংকীর্ণ মানসিকতা ছাড়তে হবে: প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন জুই, মরদেহ উদ্ধার

ফকিরহাটে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মোংলায় নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, ২ মাস পর গ্রেপ্তার ২

রামপালে প্রথমবারের মতো ক্যানসার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবা চালু

বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে চুরি, বিষক্রিয়ায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু