ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাগেরহাট সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে কেন দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে না, সেটি সরকারই ভালো বলতে পারবে। তবে সরকারের উচিত তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে প্রতিটি সরকারই সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীন বলে দাবি করলেও বাস্তবে তা নিশ্চিত হয়নি। জনগণের কণ্ঠ রোধে গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি না—এখনই আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আসার উপযুক্ত সময়। কারণ, এই দেশের রাজনীতি তারাই হত্যা করেছে। অসংখ্য মানুষকে গুম-খুন এবং জেনারেশনের ক্ষতি করার পর কোনো ধরনের অনুশোচনা ছাড়া তাদের পুনর্বাসিত করার চেষ্টা চরম অন্যায়।’
কোনো রাজনৈতিক দল যদি কেবল দল ভারী করার উদ্দেশ্যে অনুশোচনাহীন আওয়ামী লীগ কর্মীদের আশ্রয় দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
রাজনীতিতে পেশিশক্তির ব্যবহার নিয়েও সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিতে শক্তি প্রদর্শনের সংস্কৃতি দেখা গেছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
সাম্প্রতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সঙ্গে অতিরিক্ত বিলের ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতপ্রধান। স্পিকারের নিজস্ব এলাকাতেও বিদ্যুৎ না থাকার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দুই মাস ধরে দেশে ভুতুড়ে বিলের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে।
‘আপনি সেবা দিলেন না, অথচ বিল দ্বিগুণ হয়ে গেল। আর এ নিয়ে সাধারণ মানুষ কথা বলতে গেলে মন্ত্রণালয় থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়,’ যোগ করেন তিনি।
সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতার মূল্যায়নের দায়িত্ব জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী—উভয় দলের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচারক দেশের জনগণ।
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান বাগেরহাট আলী মাদ্রাসায় আয়োজিত দলীয় রুকন সম্মেলনে যোগ দেন। পরে তিনি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।