বিশ্ব ঐতিহ্য ষাট গম্বুজ মসজিদে এবারও বাগেরহাটের পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মুসল্লিদের উপস্থিতি বিবেচনায় তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছেন। আজ বুধবার (১৮ মার্চ) জেলা প্রশাসন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এবারের সূচি অনুযায়ী, ষাট গম্বুজ মসজিদে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন খানজাহান (রহ.) মাজারসংলগ্ন মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খালিদ। দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন ষাট গম্বুজ মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম ও খতিব মো. নাসির উদ্দিন। তৃতীয় ও শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। এতে ইমামতি করবেন বায়তুশ শরফ এতিমখানা ও মাদ্রাসার সুপার হাফেজ মাওলানা মো. এনামুল হক।
ঈদের জামাত উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। দর্শনার্থীদের জন্য দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জারও ব্যবস্থা করা হয়েছে মসজিদ প্রাঙ্গণে। ঈদকে ঘিরে ইতিমধ্যে মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পাশাপাশি রঙিন আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে পুরো এলাকা, যা রাতে সৃষ্টি করছে এক ভিন্ন আবহ।
বাগেরহাটের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, বাগেরহাট জেলার প্রধান ঈদের নামাজ ষাট গম্বুজ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন এবারও তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তিন জামাতে মোট ছয় হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করবে এখানে। মসজিদের ভেতরে একসঙ্গে দেড় হাজার ও বাইরে ৫ শতাধিক মানুষের নামাজের ব্যবস্থা থাকবে।
এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে সভায় বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাদিয়া ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাস, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রিয়াদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক, ইমাম সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমামসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাগেরহাট শহরের কেন্দ্রীয় পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদ, আলিয়া মাদ্রাসা মসজিদ, মিঠাপুকুরপাড় মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া ঈদুল ফিতরের দিন সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বাংলা ও আরবি হরফে ঈদ মোবারক খচিত পতাকা প্রস্তুত, বিতরণ ও সরকারি-বেসরকারি ভবনে উত্তোলন, ঈদ মোবারক খচিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রস্তুত করা হবে। ওই দিন সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু পরিবার, ছোটমণি নিবাস, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, এতিমখানায় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন এবং বিনা টিকিটে দর্শনীয় স্থানে প্রবেশের ব্যবস্থা করাও হয়েছে।