মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্বরচিত কবিতাপাঠের আসর ও অমর একুশে বক্তৃতার আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি। একাডেমির নজরুল মঞ্চে স্বরচিত কবিতাপাঠের এই আসর ও অমর একুশে বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় ‘একটি স্কুল মাসিক ম্যাগাজিন ছাত্র-সুহৃদের ইতিবৃত্ত’ শিরোনামে অমর একুশে বক্তৃতা (২০২৬) করেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ।
মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘আজ থেকে ১১৫ বছর আগে বৃহত্তর ঢাকার কালীগঞ্জে রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ হাই ইংলিশ স্কুলের মাসিক ম্যাগাজিন ছাত্র-সুহৃদ প্রকাশিত হয়েছিল। সেকালে ইংরেজি ভাষা প্রভূত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজির প্রাধান্য সত্ত্বেও একটি গ্রামীণ উচ্চবিদ্যালয় থেকে ছাত্র-সুহৃদের মতো উঁচুমানের বাংলা সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে, তা ভাবতেও অবাক লাগে।’
ড. মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, ‘ছাত্র-সুহৃদে প্রকাশিত লেখাগুলোকে মানদণ্ড হিসেবে নিলে মনে হয় না শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশে পিছিয়ে ছিল। এককথায় বলা যায়, সেই সময় স্বল্পসংখ্যক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান খুবই উন্নত ছিল।’
সে সময় সাময়িকীটি যে কবি-সাহিত্যিক ও সুধীজনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, তা উল্লেখ করে মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা সেকালে ছাত্র-সুহৃদের প্রশংসা করেছেন। এতেই বোঝা যায়, অল্প সময়ের মধ্যে মাসিক স্কুল সাময়িকীটি যথেষ্ট সুখ্যাতি অর্জন করেছিল। আজ একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে সেই সময়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাংলা সাহিত্যচর্চা যে অত্যন্ত গভীর ছিল, তা-ই স্মরণ করিয়ে দেয়।’
স্বাগত বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে বাংলা একাডেমির জন্মের সম্পর্ক। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটেছিল। ১৯৫৪-এর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট যে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল, সেখানে ২১ অবলম্বনে ২১ দফা রাখা হয়েছিল। হয়তো আবুল মনসুর আহমদ এর রচয়িতা বলেই ২১ দফার মধ্যে ৫টি দফা ছিল ভাষা-সম্পর্কিত। তার মধ্যেই একটা ছিল বাংলা ভাষা সাহিত্য ইত্যাদি সম্পর্কে গবেষণার জন্য একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে। বাংলা একাডেমি ৭০ বছর ধরে এই কাজ করে যাচ্ছে।’
আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
এর আগে সকাল ৮টায় স্বরচিত কবিতাপাঠের আসর শুরু হয়। সেখানে কবিতা পাঠ করেন তরুণ ও প্রবীণ কবিরা। কবিতাপাঠের আসরে সভাপতি ছিলেন কবি আবদুল হাই শিকদার।