আমি যেহেতু গান করি, অনেক দিন বাউল দর্শনের সঙ্গে ছিলাম, তাঁদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেছি। যেমন আমার অনেক শারীরিক সমস্যা ছিল। অপারেশন করতে হয়েছে। বাউল দর্শনের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার পর থেকে আমার অনেক সমস্যা চলে গেছে। আমার সন্তানদের অ্যান্টিবায়োটিক খাইয়ে বড় করিনি। তুলসীর পাতা-মধু খেতে খেতে বড় হয়েছে তারা। তাদের নিয়েই আমি কেরালায় আয়ুর্বেদ পড়তে গিয়েছিলাম। আয়ুর্বেদ মতে, পাঁচটি বিশেষ উপাদানের (পঞ্চ মহাভূত) সমষ্টিতে মানুষের সৃষ্টি। পৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু ও মহাশূন্য। হিসাব কষে যার ভেতরে যেটার আধিক্য রয়েছে, সেটার ওপর ভিত্তি করেই মানুষকে জীবনযাপন করতে হবে। আমার মহাশূন্য ও বায়ুর আধিক্য আছে। এ দুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই খেতে হয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে চাঁদ। চাঁদের সঙ্গে মাসিকের সম্পর্ক আছে। পৃথিবীর মতো আমার শরীরেও তিন ভাগ জল ও এক ভাগ স্থল। আমার রক্তের ভেতর দিয়েই ওই জল চলাচল করে। নদীর জোয়ার-ভাটা যেমন চাঁদের ওপর নির্ভর করে। একইভাবে মানুষের ক্ষেত্রেও সেটা হয়।
এই দর্শনগুলো আমাদের ছিল। আমরা সেগুলোকে ভুলে ছিলাম। এমন এক যান্ত্রিক যুগে বাস করতে শুরু করেছি যে এসব নিয়ে কথা বলা বা চর্চার সুযোগ নেই। এখন আমার শরীর সম্পর্কে মনে হয় ওষুধ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো আমার চেয়ে বেশি জানে। বাউল শফি মণ্ডল এ নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। তাঁরা জানেন, চর্চা করেন। আমাদের এখানে অর্ধেক বাউল গান হয়েছে চাঁদ নিয়ে। নারীর সঙ্গে চাঁদের যে সম্পর্ক, সেটা জানা জরুরি।
তথ্যসূত্র: রাসেল মাহমুদের নেওয়া সংগীতশিল্পী আনুশেহ আনাদিলের সাক্ষাৎকার, প্রথম আলো, ৩ নভেম্বর ২০১৯