হোম > নারী

আন্তর্জাতিক নারী

অসীম শূন্যে জীবন ফোটাতেন যে শিল্পী

ফিচার ডেস্ক

বেটি সার

লস অ্যাঞ্জেলেসের এক ভোরে নীরবে ঘুমের মধ্যে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এক ভাস্কর বেটি সার। মাত্র কয়েকটা দিন পরেই উদ্‌যাপিত হতো তাঁর শতবর্ষ। কিন্তু সেই উদ্‌যাপনে সশরীরে থাকবেন না তিনি। ১০০ বছরের মাইলফলকের একেবারে কাছে এসে তিনি বিশ্বকে দেখিয়ে গেলেন, শিল্প আর প্রতিবাদের সংমিশ্রণ কতটা শক্তিশালী হতে পারে। ২৬ জুলাই ৯৯ বছর বয়সে জীবনাবসান হলো কৃষ্ণাঙ্গ শিল্প আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং প্রখ্যাত ভাস্কর বেটি সারের।

লরেল ক্যানিয়নে নিজের প্রিয় বাড়িতে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে গেছেন বেটি। যেখানে একসময় ফ্র্যাঙ্ক জ্যাপা ছিলেন তাঁর প্রতিবেশী। গল্পটির সূচনা আরও আগে, ১৯২৬ সালের ৩০ জুলাই, লস অ্যাঞ্জেলেসে। জ্যাফারসন মেজ ব্রাউন এবং বিয়াট্রিস লিলিয়ান পার্সন দম্পতির ঘরে জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে জন্মেছিলেন বেটি আইরিন ব্রাউন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়ে এক শ্বেতাঙ্গ হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান তাঁর বাবা। এরপর পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন নিকট আত্মীয়দের কাছে। শৈশবে ওয়াটসে থাকার সময়ে সাইমন রোডিয়ার ওয়াটস টাওয়ারস তৈরি দেখা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। ভেজা সিমেন্ট আর বাতিল সব কুড়ানো জিনিস দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরির সেই দৃশ্য তাঁর মনে গেঁথে গিয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ইউসিএলএ থেকে ডিজাইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে নকশাকার হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন বেটি। কিন্তু ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগে এসে প্রিন্ট মেকিং এবং পরবর্তী সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহ্যবাহী অ্যাসেম্বলেজ শিল্পের জগতে পুরোপুরি নিমগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। বাতিল জিনিসপত্র, পুরোনো খেলনা, ভিন্টেজ স্মারক কুড়িয়ে এনে তিনি তৈরি করতেন শিল্পকর্ম। তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘আমার কাজ পুনর্ব্যবহার নিয়ে। আমি যে প্রতিটি জিনিস সংগ্রহ করি, তাতে আগের কাজ থেকে পাওয়া একটি নির্দিষ্ট শক্তি থাকে, যা নতুন ব্যবহারে স্থানান্তর করা হয়।’ ১৯৭২ সালে তিনি তৈরি করেন তাঁর সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং বৈপ্লবিক শিল্পকর্ম ‘দ্য লিবারেশন অব আন্ট জেমাইমা’।

ব্ল্যাক ডল ব্লুজ

১৯ শতকের বর্ণবাদী ধারণা ম্যামি বা দাসী নারীর প্রতীক আন্ট জেমাইমার এক হাতে রাইফেল আর এক হাতে গ্রেনেড তুলে দিয়ে এক নতুন যোদ্ধার রূপ দেন বেটি। দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মুক্তির এই চিত্রপট পুরো ব্ল্যাক আর্টস মুভমেন্টকে নাড়া দিয়ে যায়য। প্রখ্যাত অধিকারকর্মী অ্যাঞ্জেলা ডেভিস পরবর্তী সময়ে স্বীকার করেন, এই একটি শিল্পকর্মই মূলত কৃষ্ণাঙ্গ নারী আন্দোলনের সূচনা করেছিল। সেই কাজের পেছনের ভাবনা নিয়ে বেটি নিজেই বলেছিলেন, ‘এমন মনে হতো, যেন তারা দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেছে ঠিকই, কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গদের রেখে দিয়েছে রান্নাঘরের পাত্রের মতো করে। আমার কাছে এই আন্ট জেমাইমা চিত্রটি ছিল এবং আমি তাঁর স্কার্টের নিচে একটি রাইফেল ও গ্রেনেড বসিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। এ ছাড়া তাঁকে ক্ষমতায়িত করতে চেয়েছিলাম, একজন যোদ্ধা বানাতে চেয়েছিলাম। আমি মানুষকে জানাতে চেয়েছিলাম যে কৃষ্ণাঙ্গরা আর এগুলো দিয়ে শৃঙ্খলিত থাকবে না।’

ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেটি বিশ্বভ্রমণ করে কুড়িয়েছেন আফ্রিকান ডায়াসপোরা ও রহস্যময় আধ্যাত্মিকতার নানান উপাদান। বিশ্বজুড়ে অসংখ্য প্রদর্শনী আর সম্মাননায় ভূষিত এই নারী ৯৫ বছর বয়সেও জলরঙে এঁকেছেন ‘ব্ল্যাক ডল ব্লুজ’, তেমনি শতবর্ষের কাছাকাছি পৌঁছেও তৈরি করেছেন নতুন প্রদর্শনীর জন্য শিল্পকর্ম। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে বেটি ‘লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘যেখানে কিছুই ছিল না, সেখানে নতুন কিছু সৃষ্টি করাই শিল্প।’ নিজের সৃষ্টিশীলতার অদম্য শক্তিতে ‘অভাব’কে পূর্ণতায় রূপ দেওয়ার এই শিল্পকলা রেখে বেটি সার আজ নিজেই ইতিহাস।

সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান

বিস্মৃত ভারতীয় মুসলিম নারীদের গল্প

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রামিসার দে’শী

শুভ জন্মদিন মারিয়া এল দে হার্নান্দেজ

সরকারি চাকরিতে নারী কোটা পুনর্বহালের দাবি মহিলা পরিষদের

শিক্ষকের রিলস নিয়ে ‘অপপ্রচার’: নারীদের স্বাধীনতা সংকুচিত করার চেষ্টা, বলছেন অধিকারকর্মীরা

আসাদের নিষ্ঠুর শাসনের নেপথ্যে এক ব্রিটিশ নারী

দক্ষতা, প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস কর্মজীবনে সাফল্যের আসল ভিত্তি

তাফতানে অধিকার আদায়ে বালুচ নারীদের লড়াই

নারী জাগরণের কণ্ঠ মারিলিয়া

থেরোইন দ্য মেরিকুর বিস্মৃত এক বিপ্লবী