হোম > নারী

যে ১০টি বিষয়ে নারীর লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই

ফিচার ডেস্ক

নারী হিসেবে নিজের জন্য বাঁচাটা কোনো স্বার্থপরতা নয়। যেদিন আপনি এই ছোট ছোট অপরাধবোধগুলো থেকে মুক্তি পাবেন, সেদিনই আপনি সত্যিকারের স্বাধীনতা খুঁজে পাবেন। ছবি: পেক্সেলস

আমাদের সমাজে নারীদের চিন্তার ধরন একটু হলেও বদলেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু এত অগ্রগতির পরও একটি অদৃশ্য শিকল নারীদের পায়ে রয়ে গেছে; সেটা হলো ‘অপরাধবোধ’ বা ‘গিল্ট ট্রিপ’। ছোটবেলা থেক নারীদের শেখানো হয় সবার কথা ভাবতে, সবার মন জুগিয়ে চলতে। ফলে নিজের জন্য কিছু করতে গেলেই মনে হয়, ‘আমি কি ভুল করছি?’ আধুনিক যুগে নিজেকে ভালো রাখতে এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া জরুরি। এমন কিছু বিষয় আছে, যা নিয়ে অপরাধবোধ করা আজই বন্ধ হওয়া উচিত।

পরিকল্পনা বাতিল করা

সবার আবদার রক্ষা করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই নিজেদের ওপর বাড়তি চাপ নিই। শরীর বা মন সায় না দিলে কোনো দাওয়াত বা আড্ডা বাতিল করতেই পারেন। একা ঘরে সময় কাটানো কোনো অপরাধ নয়, বরং নিজের ‘ব্যাটারি রিচার্জ’ করার একটি উপায়। অনেক সময় নিজের মানসিক শান্তির জন্য শুধু নিজের দিকটা ভাবা উচিত। কারণ, একটা বিরক্তি-ভরা মন নিয়ে বাইরে বের হওয়ার চেয়ে ঘরে বসে নিজের মনের জটগুলো ভাঙা জরুরি।

মনের মতো খাবার খাওয়া

ডায়েট ট্রেন্ড আর শারীরিক সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে আটকা পড়ে আমরা ভুলে যাই খাবারের আনন্দ। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টিকর এবং পছন্দের খাবার খাওয়া আপনার অধিকার। খাওয়ার সময় অপরাধবোধ আপনার হজমেও ব্যাঘাত ঘটায়। তাই তৃপ্তি নিয়ে খান। স্থূলতা নিয়ে অবশ্যই সচেতনতা জরুরি। তবে পরিমিতভাবে নিজের শখের খাবারগুলোও খেতে হবে বৈকি!

নিজের শখের জিনিস কাউকে না দেওয়া

প্রিয় কোনো বই বা শখের পোশাক প্রিয় বন্ধুকেও দিতে মন না চাইতে পারে। এতে নিজেকে স্বার্থপর ভাবার কিছু নেই। নিজের পছন্দের জিনিসের প্রতি মায়া থাকা স্বাভাবিক এবং আপনার ব্যক্তিগত সীমানা বা বাউন্ডারি থাকাটা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলুন। সব সময় প্রোডাকটিভ হতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। ছুটির দিনে বিছানায় গড়াগড়ি খেয়ে বা নেটফ্লিক্স দেখে দিন পার করাটাও একধরনের থেরাপি। সারাক্ষণ কাজের পেছনে না ছুটে মাঝেমধ্যে ‘কিছু না করা’ও জীবনের অংশ।

সমাজ কী ভাবল বা পুরুষেরা ’ন্যাচারাল লুক’ পছন্দ করল কি না তা আপনার মাথাব্যথার কারণ হওয়া উচিত নয়। ছবি: পেক্সেলস

তথাকথিত ‘সিরিয়াস’ না হওয়া

বুদ্ধিমতী নারী মানেই তাকে সারা দিন ডকুমেন্টারি দেখতে হবে বা গম্ভীর বই পড়তে হবে; এমন কোনো কথা নেই। অবসর সময়ে আপনি যদি হালকা চালের রিয়েলিটি শো বা রোমান্টিক সিনেমা দেখে আনন্দ পান, তবে তা নির্দ্বিধায় উপভোগ করুন। বিনোদনের যে অংশটা আপনাকে আনন্দ দেয়, আপনি নির্দ্বিধায় সেটাই দেখুন।

সাজগোজ করা বা না করা

কেউ কেউ পরিপাটি মেকআপে স্বচ্ছন্দবোধ করেন, কেউ আবার একদমই সাজতে চান না। সমাজ কী ভাবল বা পুরুষেরা ‘ন্যাচারাল লুক’ পছন্দ করল কি না, তা আপনার মাথাব্যথার কারণ হওয়া উচিত নয়। আপনি যেভাবে আয়নায় নিজেকে দেখে খুশি হন, সেটাই সেরা। এই জন্য নিজের জন্য সাজুন। যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই নিজেকে তুলে ধরুন। পোশাকের ক্ষেত্রে এক পোশাক বারবার পরবেন কি না, সেটা নিয়েও অনেকে দ্বন্দ্বে থাকেন। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারীরাও এখন একই পোশাক বারবার পরছেন। এটি পকেটের জন্য যেমন ভালো, পরিবেশের জন্যও উপকারী। একই শাড়ি বা জামা দুবার পরলে আভিজাত্য কমে যায় না।

সাধারণ কাজ করা

সবাইকে যে বিশ্ব পরিবর্তন করতে হবে বা মিলিয়ন ডলার আয় করতে হবে, তা নয়। আপনি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যে কাজই করুন না কেন, যদি তাতে আপনার সততা থাকে, তাহলে তা নিয়ে গর্বিত হোন। আপনার যদি সেলাই করতে ইচ্ছা করে, সেটাই করুন। রান্না করতে ভালোবাসলে তা-ই করুন। যদি মনে হয়, একটি সাধারণ স্কুলশিক্ষক হয়ে জীবন কাটিয়ে দেবেন, তাহলে সেটাই করুন। যদি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে চান, সেই পেশার দিকেই নজর দিন।

আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া

নারী আবেগপ্রবণ হলে তাকে প্রায়ই ‘পাগল’ বা ‘হিস্ট্রিক্যাল’ তকমা দেওয়া হয়। নিজের অনুভূতিগুলো দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করা সাহসের কাজ। কান্নাকাটি বা রাগ করা কোনো দুর্বলতা নয়। অনেক সময় অপরিচিত বা পরিচিত কারও আচরণে আমরা অস্বস্তি বোধ করি। কিন্তু ‘ভদ্রতা’ বজায় রাখতে গিয়ে চুপ থাকি। মনে রাখবেন, আপনার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বা ‘গাট ফিলিং’ যদি আপনাকে বিপদ বা অস্বস্তির সংকেত দেয়, তবে বিনয়ী না হয়ে সেখান থেকে সরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অন্যের মেজাজ ঠিক করার দায় নেওয়া

আপনার চারপাশের কেউ খারাপ মেজাজে থাকলে আমরা প্রায়ই ভাবি, ‘আমি কি কিছু করলাম?’ কিংবা নিজে যেচে তা ঠিক করতে যাই। অন্যের আবেগ বা আচরণের দায়ভার আপনার নয়। আপনি শুধু আপনার ব্যবহারের জন্য দায়ী।

কাউকে ডেট করতে না চাওয়া

সামনের মানুষটি যতই ভালো বা মার্জিত হোক না কেন, যদি তার প্রতি আপনার আকর্ষণ তৈরি না হয়, তবে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া আপনার অধিকার। ‘না’ বলার জন্য কোনো বড় কারণের প্রয়োজন নেই, আপনার অনিচ্ছাই যথেষ্ট। প্রযুক্তির যুগে আমরা সারাক্ষণ ফোনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু মেসেজ আসামাত্রই উত্তর দিতে হবে—এই চাপ থেকে বেরিয়ে আসুন। নিজের ব্যক্তিগত সময়ের গুরুত্ব দিন। সময় নিয়ে গুছিয়ে উত্তর দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর। যদি কোনো বন্ধুত্ব বা প্রেম আপনার জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেখান থেকে সরে আসাটা নিষ্ঠুরতা নয়, বরং আত্মরক্ষা। মানসিক শান্তি নষ্ট করে কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই।

সন্তান নিতে না চাওয়া

এটি একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা আমাদের সমাজের স্বভাব। মাতৃত্ব মহান, কিন্তু এটিই একজন নারীর একমাত্র পরিচয় নয়। অনেকে নিজের ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে সন্তান নিতে চান না। এই সিদ্ধান্তের জন্য লজ্জিত বা অপরাধী বোধ করার কিছু নেই।

নারী হিসেবে নিজের জন্য বাঁচাটা কোনো স্বার্থপরতা নয়। যেদিন আপনি এই ছোট ছোট অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পাবেন, সেদিনই আপনি সত্যিকারের স্বাধীনতা খুঁজে পাবেন। আজ থেকে নিজের জন্য একটু সময় বের করুন এবং দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলুন, ‘আমি যা করছি, ঠিক করছি!’

সূত্র: স্টার্স ইনসাইডার

আদালতের বাইরে কাঠামোগত বাধা দূর না করলে নারীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না

রুদ্ধশ্বাস এক রহস্যের নাম ক্যাথরিন পেরেজ শকদাম

জয়িতা টাওয়ারে চলছে সাত দিনব্যাপী জয়িতা ঈদ মেলা

নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপি সব সময় কাজ করেছে: মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ইউনিকো হসপিটালে ‘SHE’ ক্যানসার স্ক্রিনিং প্যাকেজ চালু

এক বছরে সহিংসতা-যৌন হয়রানির শিকার ৩২ হাজার নারীকে সেবা দিয়েছে ৯৯৯

‘দুটি পুরস্কারই আমার কাছে অনেক সম্মানের ব্যাপার’

অকালমৃত্যুর মুখে বাংলাদেশের নারীরা? জেনে নিন ২০২৬ সালের বাস্তব চিত্র

অদম্য চার নারী পেলেন রাঁধুনী কীর্তিমতী সম্মাননা

নারীর অধিকার সুরক্ষায় নিবন্ধন আইন সংস্কার জরুরি: প্রজ্ঞা