প্রশ্ন: আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। বাড়িতে থাকি। আব্বু, আম্মু অন্য জেলায় চাকরি করেন, ভাইয়া ঢাকায় পড়াশোনা করে। দাদিদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কলেজে যাই, বাসায় আসি, রান্না করি, বাসার অন্যান্য কাজ করি, ঘুমাই। সামনে আমার পরীক্ষা, পড়াশোনায় ফোকাস রাখার চেষ্টা করি। কলেজ ছাড়া বাসা থেকে বেরও হই না, সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার আত্মীয়স্বজন আর বান্ধবী ছাড়া কেউ নেই।
এত কথা বললাম, যাতে সমস্যাটা বুঝতে সহজ হয়। সমস্যাটা হলো আমি অতিরিক্ত নেতিবাচক চিন্তাভাবনা করি। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এতটাই চিন্তা করি যে ইদানীং পড়ায় মন বসাতে পারছি না। না চাইলেও চিন্তা মাথায় চলে আসছে। আমি ওভার থিংক করা কীভাবে দূর করব? সারাক্ষণ মাথায় এই বিষয় সেই বিষয় ঘুরতে থাকে। যে চিন্তা কোনো কাজের নয়, সেটাও চিন্তা করি। একমাত্র ঘুমের সময় ছাড়া সব সময় ওভার থিংক করি।
মায়মুনা হাওলাদার, গাজীপুর
উত্তর: প্রথমেই বলি, আপনার জীবনযাপন শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। এ রকম পরিমিত জীবনচর্চা নিয়মিত পালন করলে পরবর্তী সময়ে সফলতা পাওয়া যায়। ইদানীং
আপনি অতিরিক্ত নেতিবাচক চিন্তা করছেন। বারবার বিভিন্ন সমস্যা মাথায় ঢুকছে আর আপনি তা থেকে কোনোভাবেই বের হতে পারছেন না।
এ ক্ষেত্রে আরও কিছু তথ্য থাকলে ভালো হতো। যেমন আপনার পরিবারে কারও মানসিক সমস্যা বা রোগের ইতিহাস আছে কি না।
আপনি সম্প্রতি কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা, দুশ্চিন্তা বা কোনো টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন কি না, এই বিষয়গুলোও জানা জরুরি। বারবার যে চিন্তাগুলো আসছে, সেগুলো কি শুধু নেতিবাচক? যেমন আমাকে দিয়ে কিছু হবে
না, আমার কোনো আশা নেই, এর চেয়ে মরে যাওয়া ভালো—
এ রকম। নাকি বিভিন্ন বিষয়ে ক্রমাগত চিন্তা আসে, যা আপনি অপ্রয়োজনীয় মনে করেন, কিন্তু কিছুতেই মন থেকে সরাতে পারেন না? ঠিক কী বিষয় নিয়ে আপনি অতিরিক্ত ভাবছেন, সেই বিষয়গুলো জানলে ভালো হতো।
সমস্যা যা-ই থাকুক, ক্রমাগত নেতিবাচক চিন্তা ও মন খারাপ বিষণ্নতার (মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার) কারণে হতে পারে। আর অমূলক চিন্তার কারণ হলো, ওসিডি বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এই রোগগুলোর বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা আছে। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এবং প্রয়োজনে সাইকোথেরাপির মাধ্যমে এই রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।
পরামর্শ দিয়েছেন
ডা. ফারজানা রহমান
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সোশ্যাল ও কমিউনিটি সাইকিয়াট্রি ডিপার্টমেন্ট, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা