১৯৯১ সালে চীনে অনুষ্ঠিত হয় ফিফার প্রথম নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট। এটি নিয়ে ফিফার অফিশিয়াল বিবৃতির আড়ালে ছিল কিছু ভিন্ন বাস্তবতার গল্প। ১২টি দলের এই টুর্নামেন্টে নরওয়েকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যর্থতার ভয়ে ফিফা তখন তাদের ‘ওয়ার্ল্ড কাপ’ ব্র্যান্ড নামটি ব্যবহারে দ্বিধাবোধ করে। তারা এর অফিশিয়াল নাম দেয় দ্য ফিফা উইমেনস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ফর দ্য এম অ্যান্ড এমএস কাপ।
টুর্নামেন্ট সফল করতে স্থানীয় কলকারখানার শ্রমিকদের এনে স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরানো হয়েছিল। নারী খেলোয়াড়দের স্ট্যামিনা নিয়ে সন্দিহান ছিল ফিফা। তাই ম্যাচের সময় ৯০ মিনিটের বদলে ৮০ মিনিট নির্ধারণ করে। এতে মার্কিন অধিনায়ক এপ্রিল হেইনরিখস রসিকতা করে বলেছিলেন, ফিফা বোধ হয় ভাবছে, ৯০ মিনিট খেললে তাদের ডিম্বাশয় খুলে পড়ে যাবে! এমনকি ফিফা মাঠে ছোট বল ব্যবহারের কথাও ভেবেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অপেশাদার
নারী খেলোয়াড়েরা খরচ বাঁচাতে ৩৬ ঘণ্টার ক্লান্তিকর বিমানযাত্রা করে চীনে পৌঁছান। তাঁরা খেলেন পুরুষ যুব দলের পুরোনো জার্সি পরে। তাঁদের দৈনিক ভাতা ছিল মাত্র ১০ ডলার। সেমিফাইনালের পর ফুটবল কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে তাঁরা থ্যাংকসগিভিং ডে উদ্যাপন করেন। ফাইনালে মিশেল একার্স জোড়া গোল করার পর মার্কিনরা জিতলেও প্রচারমাধ্যমের অভাবে দেশে ফিরে তাঁরা মাত্র কয়েকজন মানুষের সংবর্ধনা পান। তবে এই নীরব জয়ই নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ বদলে দেয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান