দেড় শ বছর আগে একজন নারীর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ছিল সমাজের চোখে এক বিশাল ধৃষ্টতা। সেই ধৃষ্টতা দেখিয়েছিলেন সোফিয়া জ্যাকস-ব্লেক। তিনি কঠিন সময়েও পিছু হটেননি। অপমানকে পুঁজি করে জনমত গঠন করে প্রমাণ করেছিলেন, চিকিৎসা পেশায় নারীদের প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি।
সোফিয়া ১৮৬৯ সালে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে এই বলে যে, শুধু একজন নারীর জন্য আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। সোফিয়া সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে আরও ৬ জন সমমনা নারীকে খুঁজে বের করেন। এই সাতজন নারী ইতিহাসে ‘এডিনবরা সেভেন’ নামে পরিচিত। ১৮৭০ সালে শারীরতত্ত্বের পরীক্ষার দিন সোফিয়া এবং তাঁর সঙ্গীরা যখন সার্জনস হলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন, তখন শত শত পুরুষ শিক্ষার্থী তাঁদের ঘিরে ধরে এবং পচা-কাদা ও আবর্জনা ছুড়ে মারে। এই ঘটনা ইতিহাসে ‘সার্জনস হল রায়ট’ নামে পরিচিত।
সোফিয়ার লেখা ‘মেডিকেল উইমেন’ বইটি নারী চিকিৎসকদের অধিকারের সপক্ষে একটি শক্তিশালী দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন নারীর শরীর সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়ার জন্য একজন নারী চিকিৎসকেরই সব থেকে
বেশি অধিকার থাকা উচিত। ২০১৭ সালে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সেই
ভুল স্বীকার করে নেয় এবং এডিনবরা সেভেন-কে মরণোত্তর সম্মানসূচক ডিগ্রি দেয়। সোফিয়া জ্যাকস-ব্লেকের জন্ম ১৮৪০ সালের ২১ জানুয়ারি, ইংল্যান্ডের ৩ ক্রফট প্লেস হেস্টিংসে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৯১২ সালের ৭ জানুয়ারি।