যুক্তরাষ্ট্রের একটি বইয়ের দোকান থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে চুরি হওয়া একটি বিরল বই অবশেষে ফিরে এসেছে। শুধু বই ফেরতই নয়, অনুতপ্ত চোর ক্ষমাপ্রার্থনার একটি আবেগঘন চিঠি ও ১০০ ডলার পাঠিয়েছেন। দীর্ঘ চার দশক পর এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা বইয়ের দোকানটির কর্মীদের যেমন আবেগাপ্লুত করেছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলের ইউরেকা শহরের ওল্ড টাউন এলাকার স্বাধীন বইয়ের দোকান ‘বুকলেগার’-এ। গত সোমবার (৩ আগস্ট) ডাকযোগে একটি ছোট পার্সেল আসে দোকানটিতে। দোকানের মালিক জেনিফার ম্যাকফ্যাডেন প্রথমে ভেবেছিলেন, এটি হয়তো কোনো প্রচারসামগ্রী। তবে কর্মীদের অনুরোধে পার্সেলটি খুলতেই তিনি বিস্মিত হন।
পার্সেলের ভেতরে ছিল মার্কিন লেখক ও টনি পুরস্কারজয়ী পোশাক পরিকল্পনাকারী এডওয়ার্ড গোরির ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণের বিরল বই ‘দ্য আনস্ট্রাং হার্প’। বইটির সঙ্গে ছিল হাতে লেখা একটি দীর্ঘ ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি ও ১০০ ডলারের একটি নোট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাকফ্যাডেন জানান, পার্সেলটি খুলে তিনি ও তাঁর দুই সহকর্মী আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘এটি এমন এক অপ্রত্যাশিত ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা, যা আমাদের চোখে পানি এনে দিয়েছে।’
চিঠিতে প্রেরক স্বীকার করেন, ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে তিনি হামবোল্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির (এইচএসইউ) ছাত্র থাকাকালে মাদক ও অ্যালকোহলে আসক্ত ছিলেন। অর্থকষ্টে পড়ে তিনি বইটি দোকান থেকে চুরি করেছিলেন। তবে পরে জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তিনি আসক্তি কাটিয়ে নতুন জীবন শুরু করেন এবং অতীতের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
সম্প্রতি নিজের গ্যারেজ পরিষ্কার করার সময় একটি কার্ডবোর্ডের বাক্সে বহুদিন ধরে পড়ে থাকা বইটি খুঁজে পান তিনি। তখনই জানতে পারেন, বইয়ের দোকানটি এখনো চালু রয়েছে। এরপর বইটি ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। চিঠিতে তিনি লেখেন, জীবনের নৈতিকতার অভাবের জন্য তিনি গভীরভাবে লজ্জিত এবং প্রয়োজন হলে এই ভুলের ক্ষতিপূরণে আরও যা করার দরকার, তা করতেও প্রস্তুত।
জেনিফার ম্যাকফ্যাডেন বলেন, এত বছর পর হলেও অতীতের ভুল স্বীকার করে তা সংশোধনের চেষ্টা করতে সাহস লাগে। তাঁর মতে, মানুষ ভুল করতেই পারে, কিন্তু সেই ভুলের দায় স্বীকার করে সংশোধনের উদ্যোগই মানবতার সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি।
ম্যাকফ্যাডেন আরও জানান, চিঠিতে দেওয়া ফোন নম্বরে ওই ব্যক্তিকে বার্তা পাঠিয়ে ধন্যবাদ জানাবেন এবং বলবেন, চার দশক ধরে যে অপরাধবোধ তিনি বয়ে বেড়িয়েছেন, এবার তা থেকে নিজেকে মুক্ত মনে করতে পারেন।