ইরানের ওপর ভয়াবহ বিমান হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনী এনথ্রোপিক-এর বিতর্কিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘ক্লড’ ব্যবহার করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই এআই কোম্পানিটির সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার এবং তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং এক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সিমুলেশন তৈরির কাজে ‘ক্লড’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত শুক্রবার ইরান হামলা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এনথ্রোপিককে একটি ‘উগ্র বামপন্থী’ কোম্পানি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই কোম্পানিটির পরিচালকেরা বাস্তব দুনিয়া সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখেন না। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সমস্ত ফেডারেল সংস্থাকে ক্লড-এর ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেন।
এই তিক্ততার সূত্রপাত হয় গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ক্লড ব্যবহারের পর থেকে। এনথ্রোপিক এই ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিল, তাদের ব্যবহারের শর্ত অনুযায়ী কোনো ধরনের সহিংসতা, অস্ত্র তৈরি বা নজরদারির কাজে তাদের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এরপর থেকেই ট্রাম্প এবং পেন্টাগনের সঙ্গে কোম্পানিটির সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এনথ্রোপিক-এর এই অবস্থানকে ‘অহংকার এবং বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আমেরিকার যোদ্ধারা কখনোই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আদর্শিক খেয়ালখুশির কাছে জিম্মি থাকবে না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, সামরিক ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া এই প্রযুক্তিকে রাতারাতি সরিয়ে ফেলা কঠিন। তাই একটি ‘দেশপ্রেমিক ও উন্নত’ সেবায় স্থানান্তরের জন্য পেন্টাগনকে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এআই-এর ব্যবহার যে এখনো থামেনি সেটির ইঙ্গিত স্পষ্ট।
এনথ্রোপিক-এর বিদায়ের পর এই বিশাল বাজার দখলে এগিয়ে এসেছে চ্যাটজিপিটি-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’। কোম্পানির সিইও স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, পেন্টাগনের ক্লাসিফায়েড নেটওয়ার্কে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিষয়ে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রণক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে সিলিকন ভ্যালি এবং হোয়াইট হাউসের এই স্নায়ুযুদ্ধ আধুনিক যুদ্ধকৌশলকে এক নতুন ও জটিল মোড়ে দাঁড় করিয়েছে।