দীর্ঘ ১৫৬ বছর ধরে বিজ্ঞানের জটিল ও সূক্ষ্ম বিষয়গুলো গবেষণাপত্রের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখার পর, এবার তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে আধুনিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটকে পা রাখল বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’।
গত ১৫ দশকে বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় নেতৃত্ব দেওয়া এই সাময়িকীটি এখন থেকে ছোট ছোট ভিডিওর মাধ্যমে বিজ্ঞানের বিস্ময়কর সব তথ্য মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে।
প্রথম ভিডিওতেই চমক: ‘জম্বি কোষ’ বা মৃত কোষের পুনর্জীবন
টিকটকে নেচারের যাত্রার শুরুতেই একটি রোমাঞ্চকর বিষয় বেছে নেওয়া হয়েছে। আর তা হলো ‘জম্বি সেল’ বা এমন কিছু কোষ যা মৃত্যুর পরও আবার প্রাণ ফিরে পেতে পারে। ইওয়েন ক্যালাওয়ের একটি গবেষণাপত্রের ওপর ভিত্তি করে এই চমকপ্রদ ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
ভিডিওটি উপস্থাপনা ও পরিচালনা করেছেন মারেন হানসবার্গার। এতে মৃত কোষ কীভাবে আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও গবেষণার ছবি তুলে ধরা হয়েছে। নাচিরা আসাদ-গার্সিয়ার তোলা ছবি এবং ট্রিপল স্কুপের আবহ সংগীতে সজ্জিত এই ভিডিওটি ইতিমধ্যে বিজ্ঞানী এবং বিজ্ঞান অনুরাগী মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।
এই ভিডিওটি মূলত সাইডেল জে. পি. এবং অন্যদের একটি প্রিপ্রিন্ট গবেষণার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যা সম্প্রতি ‘bioRxiv’-এ প্রকাশিত হয়েছে। সুপারভাইজিং প্রোডিউসার শামিনি বুন্ডেল জানান, বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে সহজবোধ্য করে সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থাপন করাই তাঁদের এই নতুন যাত্রার মূল উদ্দেশ্য।
কেন এই উদ্যোগ?
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তরুণ সমাজ এখন অনেক বেশি ভিডিও কন্টেন্টের ওপর নির্ভরশীল। তাই বিজ্ঞানের শুদ্ধ ও সঠিক তথ্য যেন বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিড়ে হারিয়ে না যায়, সেজন্যই নেচারের মতো প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হতে হচ্ছে।
এখন থেকে টিকটকের @nature হ্যান্ডলে নিয়মিতভাবে বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক আবিষ্কার, উদ্ভাবন, মহাকাশ গবেষণা এবং জীবনের অজানা সব রহস্য নিয়ে তথ্যবহুল ও বিনোদনমূলক ভিডিও পাওয়া যাবে।