২০০৭ সালে অ্যাপল যখন প্রথম আইফোন বাজারে আনে, তখন স্মার্টফোনের দুনিয়া থেকে ফিজিক্যাল বাটন বা বোতামওয়ালা কি-বোর্ডগুলো কার্যত বিদায় নিয়েছিল। টাচস্ক্রিনের জাদুতে ব্ল্যাকবেরির মতো বাটন ফোনের রাজত্ব শেষ হয়ে গিয়েছিল দ্রুতই। কিন্তু দুই দশক পর প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। ব্রিটেনভিত্তিক ‘ক্লিকস টেকনোলজি’ এবং চীনা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিহার্টজ’-এর মতো স্টার্টআপগুলো আবার স্মার্টফোনে ফিজিক্যাল কি-বোর্ড ফিরিয়ে আনছে। সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জং ইউনবো বলেন, স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও উপায়। ফ্যাশনের মতো প্রযুক্তিতেও পুরোনো ট্রেন্ড আবার ফিরে আসে।’ আর ক্লিকস টেকনোলজি জানিয়েছে, তাদের গ্রাহকদের ৪৫ শতাংশই এমন তরুণ, যারা এর আগে কখনো বাটন ফোন ব্যবহার করেনি। তাদের কাছে এটি শুধু নস্টালজিয়া নয়, বরং ফোন ব্যবহারের এক নতুন এবং ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
স্মার্টফোনে সারাক্ষণ ডুমস্ক্রলিং বা অকারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করা বর্তমান প্রজন্মের এক বড় সমস্যা। ২৩ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর চনি আলফনসো জানান, কি-বোর্ডওয়ালা মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে তাঁর ফোন ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। কাচের মসৃণ স্ক্রিনে দ্রুত টাইপ করার বদলে ফিজিক্যাল বাটনে টাইপ করা কঠিন। এই বাড়তি কষ্ট অথবা ফ্রিকশন তাঁকে অকারণে মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত রাখছে। এতে তাঁর কাজের মনঃসংযোগ বাড়ছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় অপচয় কমছে। আধুনিক দামি স্মার্টফোনগুলো থেকে অনেক দরকারি ফিচার এখন বাদ দেওয়া হয়েছে।
কি-বোর্ডওয়ালা এই মোবাইল ফোনগুলো পুরোনো ও কার্যকরী সুবিধাগুলো ফিরিয়ে আনছে। যেমন এ ক্ষেত্রে তারহীন হেডফোনের চার্জ ফুরিয়ে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই। উপরন্তু, তারযুক্ত হেডফোন অনেক সাশ্রয়ী। আরও থাকছে আলাদা মেমোরি কার্ড ব্যবহার করার সুবিধা। এমনকি বিভিন্ন ভাষায় কি-বোর্ড এবং পছন্দমতো পেছনের কভার বদলানোর সুযোগ।
ক্লিকস টেকনোলজি লক্ষ করেছে, ফিজিক্যাল কি-বোর্ড শুধু তরুণদের উপযোগী হবে, এমন নয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিংবা যাঁদের আঙুল নাড়াচাড়ায় সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য টাচস্ক্রিনের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক হলো এই বাটন ফোন। টাচস্ক্রিনে টাইপ করতে গিয়ে যাঁরা প্রায়ই ভুল করেন বা অটো-কারেকশনের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ, তাঁদের কাছে ফিজিক্যাল বাটন অনেক বেশি বিশ্বস্ত।
বর্তমানে ফিজিক্যাল কি-বোর্ড ফোনের বাজার তেমন বড় না হলেও এর চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। ইউনিহার্টজের নতুন ‘টাইটান ২’ ফোনের জন্য কিকস্টার্টার ক্যাম্পেইনে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৪৮ লাখ ডলারের বেশি অর্থ জমা হয়েছে। ক্লিকস টেকনোলজিও তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি প্রি-অর্ডার পাচ্ছে। যদিও মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে এই ফোনগুলোর দাম কিছুটা বাড়ছে। তবু একদল নিবেদিত গ্রাহক ঠিকই এই ভিন্নধর্মী ডিভাইসের দিকে ঝুঁকছেন।
সূত্র: সিএনবিসি