হোম > প্রযুক্তি

এআই চ্যাটবট কি আমাদের মেধাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে

জগৎপতি বর্মা, ঢাকা

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষক নাটালিয়া কসমিনা একজন ইন্টার্ন খুঁজছিলেন। বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর তিনি বেশ কিছু সিভি এবং কাভার লেটার পেলেন। এরপর সেগুলো পড়তে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি দেখলেন, আবেদনকারীদের কভার লেটারগুলো একই রকম!

সেগুলো দীর্ঘ এবং মার্জিত ভাষায় লেখা। কিন্তু বিষয়বস্তু বিমূর্ত এবং তাঁর কাজের সঙ্গে আবেদনকারীদের অভিজ্ঞতার কোনো যৌক্তিক সংযোগ নেই। কয়েকটি কাভার লেটার পড়ার পর নাটালিয়ার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়, আবেদনকারীরা চ্যাটজিপিটি, গুগল জেমিনাই বা ক্লডের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত চ্যাটবট ব্যবহার করে এগুলো লিখেছেন।

এরপরই নাটালিয়ার মনে প্রশ্ন জাগে, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ কি আরও বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে?

এই নির্ভরশীলতা কি অজান্তেই আমাদের দুর্বল করে দিচ্ছে?একই সময়ে এমআইটিতে ক্লাস নেওয়ার সময় নাটালিয়া লক্ষ করেন, শিক্ষার্থীরা কয়েক বছর আগের তুলনায় এখন খুব দ্রুত পড়া ভুলে যাচ্ছেন। মানুষ এবং কম্পিউটারের মিথস্ক্রিয়া নিয়ে গবেষণারত এই শিক্ষিকার সন্দেহ হয়, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের মেধা ও চিন্তাশক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

নাটালিয়া তাঁর কয়েকজন সহকর্মী মিলে এমআইটি মিডিয়া ল্যাবে ৫৪ জন শিক্ষার্থীর ওপর একটি পরীক্ষা চালান। শিক্ষার্থীদের তিনটি দলে ভাগ করে প্রবন্ধ লিখতে দেওয়া হয়। এক দল ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটি, এক দল গুগল সার্চ এবং বাকিরা কোনো প্রযুক্তি ছাড়াই প্রবন্ধ লেখেন। নাটালিয়া লক্ষ করেন, যারা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন, তাঁদের মস্তিষ্কের সক্রিয়তা অন্যদের তুলনায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কম।

নাটালিয়া বলেন, ‘যাঁরা নিজের বুদ্ধিতে প্রবন্ধ লিখেছেন, তাঁদের মস্তিষ্ক ছিল দারুণ সক্রিয়। অন্যদিকে, এআই ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের সেসব অংশ যা সৃজনশীলতা ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণে কাজ করে, সেগুলো ছিল প্রায় নিষ্ক্রিয়। এমনকি প্রবন্ধ জমা দেওয়ার পর তাঁরা নিজেদের লেখাও চিনতে পারছিলেন না।’

অর্থাৎ, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এআই চ্যাটবটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের সৃজনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং দীর্ঘ মেয়াদে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এই অবস্থাকে ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বা মানসিক আত্মসমর্পণ বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন তাত্ত্বিক স্নায়ুবিজ্ঞানী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ ভিভিয়ান মিং তাঁর ‘রোবট প্রুফ’ বইয়ে সতর্ক করেছেন, এআইয়ের সহজ উত্তর খোঁজার প্রবণতা আমাদের মস্তিষ্কের ‘গামা ওয়েভ’ সক্রিয়তা কমিয়ে দেয়।

গামা ওয়েভের দুর্বলতা বার্ধক্যে জ্ঞানীয় ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘জিপিএসের অতিরিক্ত ব্যবহার যেমন মানুষের দিক নির্ণয় করার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, তেমনি এআইয়ের ব্যবহার মেধার সুপারপাওয়ার বা গভীর চিন্তার ক্ষমতা নষ্ট করছে।’ তাহলে কি আমরা এআই ব্যবহার করব না?

আর তা হলে এই সমস্যা সমাধানের পথ কী?

গবেষকেরা এআইকে পুরোপুরি বর্জন করতে বলেননি। তবে ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন। নেমেসিস প্রম্পটের ব্যবহার অর্থাৎ এআইকে আপনার ‘চিরশত্রু’ হিসেবে কাজ করতে বলুন, যাতে সে আপনার যুক্তির ভুলগুলো ধরে দেয় এবং নিজের মতামত রক্ষায় গভীর চিন্তা করতে বাধ্য করে। প্রোডাকটিভ ফ্রিকশন বা এআইকে সরাসরি উত্তর না দিয়ে বরং আপনাকে প্রশ্ন করতে কিংবা প্রেক্ষাপট বুঝিয়ে দিতে বলুন। এ ছাড়া কোনো বিষয় শেখার সময় শুরুতে এআই ব্যবহার না করে আগে নিজের মেধা দিয়ে ভিত্তি তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন নাটালিয়া কসমিনা।

আমাদের মস্তিষ্ক সব সময় শর্টকাট কিংবা সহজ পথ খোঁজে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মস্তিষ্ককে চ্যালেঞ্জের মুখে রাখা জরুরি। সহজ কথায়, পরিশ্রম না করলে যেমন শরীরে মেদ জমে যায়, তেমনি এআই যদি আমাদের হয়ে সব চিন্তা করে দেয়, তবে মানুষের মৌলিক সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা অচিরেই হারিয়ে যাবে।

চীনের গবেষণা: অতিরিক্ত গরম হলেও বিস্ফোরিত হবে না ব্যাটারি

পদত্যাগ করছেন অ্যাপলের সিইও টিম কুক

গণনা জগতে আজও উজ্জ্বল শকুন্তলা

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে সচিব হিসেবে যোগদান করলেন বিলকিস জাহান রিমি

মানুষকে হারিয়ে হাফ ম্যারাথনে রেকর্ড গড়ল রোবট

ব্যাপক ছাঁটাইয়ের পথে মেটা, আগামী মাসে চাকরি থাকবে না ৮০০০ কর্মীর

নিজস্ব প্রযুক্তির প্রথম চালকবিহীন কার্গো ওড়াল চীন

আবার কোডিং শুরু করলেন জাকারবার্গ, বসছেন এআই টিমের ডেস্কে

ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও প্রচার, ইরানপন্থী ইউটিউব চ্যানেল সরিয়ে দিল গুগল

দুই ডলারে ভিডিও কলে এআই যিশু, কিনতে বলেন প্রিমিয়াম ভার্সন