টুর্নামেন্টের আয়োজক বলে কথা। তার চেয়েও বড় কথা ৩২ বছর পর মার্কিন মুলুকে হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের হতাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়েকে হেসেখেলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্বকাপের অপর দুই আয়োজক মেক্সিকো, কানাডা আগেই খেলে ফেলেছে। যেখানে পরশু রাতে আসতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মেক্সিকো। গত রাতে টরন্টোতে বসনিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে কানাডা। আজ সকালে সোফি স্টেডিয়ামে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলে হারিয়েছে প্যারাগুয়েকে।
ম্যাচের ৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। সেটা অবশ্য প্যারাগুয়ের কাছ থেকে উপহার পেয়েছে স্বাগতিকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ৭ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে বসেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। দ্বিতীয় গোল পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৪ মিনিট। ৩১ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচের অ্যাসিস্টে গোল করেন ফোলারিন বালোগান। ৩ মিনিট আগে যে বালোগানের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছিল, পুলিসিচের পাস পেয়ে গোল করতে এবার বালোগান ভুল করেননি।
প্রথমার্ধ যুক্তরাষ্ট্র শেষ করেছে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে। ৪৫ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৫ মিনিটে মালিক টিলম্যানের অ্যাসিস্টে গোল করেছেন বালোগান। র্যাঙ্কিংয়ে কেন দুই দলের মধ্যে ২৭ ব্যবধান, সেটা বোঝা গেল মাঠের পারফরম্যান্সেই। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ১৫ নম্বরে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র আর প্যারাগুয়ের অবস্থান ৪২ নম্বরে। এরই মধ্যে ৭২ মিনিটে দুই ফুটবলারকে বদলি করান যুক্তরাষ্ট্র কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। সার্জিনো ডেস্টের পরিবর্তে নামেন তিমোথি উইয়াহ। আর জোড়া গোল করা বালোগানকে উঠিয়ে রিকার্দো পেপিকে নামান পচেত্তিনো।
খেলোয়াড় পরিবর্তনের পর উল্টো গোল হজম করে যুক্তরাষ্ট্র। ৭৩ মিনিটে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্ডো গিলের পাস রিসিভ করেন হুলিয়ো এনসিসো। পরে এনসিসোর অ্যাসিস্টে প্যারাগুয়েকে প্রথম গোল এনে দেন মরিসিও। শেষ ভাগে এসে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র গোল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। যদিও ৯০ মিনিটের মধ্যে চতুর্থ গোল করার চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
৯০ মিনিটের পর খেলা যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র করে চতুর্থ গোল। অতিরিক্ত ৮ মিনিটে প্যারাগুয়ের রক্ষণদুর্গ ভেদ করে লক্ষ্যভেদ করেন জিও রেইনা। তাঁকে গোল করতে সহায়তা করেন অ্যালেক্স ফ্রিমান। এই গোলের পর বাঁধভাঙা উদযাপন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক কিছুক্ষণ পর শেষ বাঁশি বাজলে নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের ৪-১ গোলের বিশাল জয়।