হোম > খেলা > ফুটবল

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ঘাঁটি কোথায়, কী কী সুবিধা আছে সেখানে

ক্রীড়া ডেস্ক    

এখানেই ঘাঁটি গড়বে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ছবি; সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র কিছুদিন। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে দলগত বেস ক্যাম্প ও অনুশীলন ভেন্যুর তালিকা চূড়ান্ত করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্টের পরিধি এবার রেকর্ড ৪৮ দলের হওয়ায় এবং পুরো উত্তর আমেরিকা জুড়ে খেলা চলায় ভ্রমণক্লান্তি কমানো এবং গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ভেন্যুর কাছাকাছি থাকাটাই ছিল ফুটবল ফেডারেশনগুলোর চাহিদা। ৩৯ দল যুক্তরাষ্ট্রে, ৭ দল মেক্সিকোতে এবং ২ট দল কানাডাকে তাদের ঘরের বাইরে আরেক টুকরা ঘর হিসেবে বেছে নিয়েছে।

বিশ্বকপের এই মহাযজ্ঞে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ কন্ডিশন, লজিস্টিকস এবং নিজস্ব কৌশলের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভিন্ন মেরুকে নিজেদের মূল ঘাঁটি বানিয়েছে।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ মিশন সফল করতে তাঁবু গাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল জোনের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে। সেখানকার বিখ্যাত ‘স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টার’-কে নিজেদের মূল ঘাঁটি বানিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব স্পোর্টিং কানসাস সিটির এই হোম গ্রাউন্ডটি আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা উদাহরণ। এই সেন্টারে রয়েছে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠ, যা হুবহু বিশ্বকাপের ম্যাচ ভেন্যুগুলোর মতো করেই তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এ ছাড়া এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক স্পোর্টস সায়েন্স ল্যাব, রিয়েল টাইম ডেটা অ্যানালাইসিস রুম এবং ক্রায়োথেরাপিসহ আধুনিক ইনডোর মেডিকেল ও রিহ্যাব সুবিধা।

কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য বড় সুবিধা হলো, এখানকার হাই-প্রাইভেসি ডিজাইন। বাইরের কোনো মিডিয়া বা স্পাই ক্যামেরা ছাড়াই সম্পূর্ণ রুদ্ধদ্বার অনুশীলন সেশন চালাতে পারবেন তিনি। তা ছাড়া এমএলএসে খেলার কারণে কানসাসের কন্ডিশন ও আবহাওয়া অধিনায়ক লিওনেল মেসির খুব চেনা। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি এই কানসাস সিটিতে খেলাই আর্জেন্টিনার জন্য বড় মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেবে।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের বেস ক্যাম্পের জন্য বেছে নিয়েছে পূর্ব উপকূলের জমজমাট নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি অঞ্চলের কলাম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফেসিলিটিকে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) মূলত খেলোয়াড়দের মানসিক স্বস্তি, গ্ল্যামার এবং যাতায়াতের সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে এই ক্যাম্প চূড়ান্ত করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ব্রাজিল যদি ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মিশন শুরু করে, তবে এই অঞ্চলের কন্ডিশন এবং ঘাসের ধরনের সঙ্গে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় লজিস্টিক সুবিধা আর হতে পারে না।

জন এফ কেনেডি ও নিউয়ার্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাছাকাছি থাকায় গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াতে ভিনিসিয়ুস-নেইমারদের ভ্রমণজনিত ক্লান্তি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া এই অঞ্চলে বিশাল লাতিন ও ব্রাজিলিয়ান অভিবাসী পপুলেশন থাকায় সেলেসাওরা মাঠের বাইরে ঘরের মাঠে খেলার মতো চেনা উন্মাদনা ও সমর্থন পাবেন, যা বড় টুর্নামেন্টে চাপ সামলাতে সাহায্য করবে।

আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকো ও কানাডা স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের চেনা কন্ডিশনে ক্যাম্প ফেলছে। মেক্সিকোতে যে ৭ দল বেস ক্যাম্প করছে, তারা সবাই লাতিন ও এশিয়ান কন্ডিশনে অভ্যস্ত। স্বাগতিক মেক্সিকো নিজে থাকছে মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত ‘সেন্ট্রো দে আলতো রেন্দিমিয়েন্তো’তে। এ ছাড়া কলম্বিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া বেছে নিয়েছে গুয়াদালাহারাকে। তিউনিসিয়া মন্টেইরে এবং উরুগুয়ে কানকুনের সমুদ্র উপকূলীয় কন্ডিশনে ক্যাম্প করবে। এই দলগুলো মূলত মেক্সিকোর জোনে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলবে বিধায় উচ্চতা এবং গরমের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অপর আয়োজক কানাডা তাদের ক্যাম্প করছে ভ্যাঙ্কুভারের ‘ন্যাশনাল সকার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে’। তাদের সঙ্গে কানাডার নিউ টেকামসেথকে নিজেদের 'হোম' বানিয়েছে সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশ পানামা।

ফিফার গাইডলাইন ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জুন-জুলাইয়ের মূল টুর্নামেন্ট শুরুর অন্তত ১০ থেকে ১২ দিন আগে দলগুলো তাদের অফিশিয়াল বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে শুরু করবে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই উত্তর আমেরিকার এই তিন দেশের ক্যাম্পগুলোতে দলগুলোর আগমনী ব্যস্ততা পুরোপুরি শুরু হয়ে যাবে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়ানোর অন্তত ৫ দিন আগে প্রতিটি দলকে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের নির্ধারিত ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হবে। ফলে জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বমঞ্চের ৪৮টি দল নিজ নিজ ঘাঁটিতে থিতু হয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ম্যাচ ও অনুশীলন সেশনে মনোযোগ দেবে।

১৬ আয়োজক শহরের বাইরেও আরও ২৫টি ভিন্ন ছোট-বড় কমিউনিটি এবার দলগুলোকে আতিথেয়তা দিচ্ছে, যা বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে মেগাসিটিগুলোর বাইরে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। মাঠের মহাযুদ্ধ শুরুর আগে এই বেস ক্যাম্পগুলোর বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা, ভৌগোলিক অবস্থান ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশই মূলত দলগুলোর মূল টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের ভিত গড়ে দেবে।

অতিরিক্ত চাপে ক্লান্ত মেসির পেশি

বাংলাদেশ ম্যাচের আগে ভারতের কাছে উড়ে গেল মালদ্বীপ

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ইয়ামাল, স্পেনের বিশ্বকাপ দলে আছেন কারা

যেদিন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন অ্যানফিল্ডে

সান মারিনোতে হামজা-জামালদের প্রত্যাশা অনেক বেশি

ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে কোমো, আর কারা খেলবে এই টুর্নামেন্টে

১৬ কোটিতে বিক্রি রোনালদোর কার্ড, তবু শীর্ষে মেসি

সারা জীবনের চেয়ে বেশি কেঁদে লিভারপুল ছাড়লেন সালাহ

৩২ মাস পর ফিরলেন জিকো, নেই রাকিব

মেসির চোটের কী খবর