৩০ বছরের খেলোয়াড়ি জীবন। সেই জীবনের ইতি টানতে যাচ্ছেন মামুনুল ইসলাম। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় আগামীকাল রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে ফর্টিস এফসির হয়ে শেষবারের মতো পেশাদার ফুটবলে মাঠে নামবেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে ১৫ বছর এবং টানা ৬ বছর আর্মব্যান্ড হাতে নেতৃত্ব দেওয়া মামুনুল বিদায়বেলায় ছিলেন আবেগপ্রবণ। ডেড বল স্পেশালিস্ট মিডফিল্ডার হিসেবে খ্যাতি রয়েছে তাঁর। তবে এত প্রাপ্তির ভিড়েও দুটি কাঁটা তাঁকে আজীবন বিঁধবে। নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করতে গিয়ে গতকাল ফর্টিস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মামুনুল বলেন, ‘সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা এবং আতলেতিকো দি কলকাতায় খেলার সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ আমার নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত থেকে যাবে।’
মাঠের লড়াই শেষ হলেও ফুটবল থেকে দূরে সরছেন না মামুনুল। ইতিমধ্যে ‘এ’ লাইসেন্সধারী এই কোচ ভবিষ্যতে ডাগআউটে ফেরার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে তাঁর পরামর্শ, ‘কষ্টের কোনো বিকল্প নেই। টার্গেট ঠিক রেখে পরিশ্রম করলে তবেই সফলতা আসবে। আমি মনে করি মোরসালিনদের মধ্যে সেই প্রতিভা আছে যারা আগামীতে সাফ জয় করতে পারবে। প্রবাসী প্লেয়াররা আসছে তারা দেশকে দিচ্ছে। প্রবাসী শব্দটা ব্যবহার করা উচিত না। তারা আমাদের দেশের সম্পদ, তারা আমাদের দেশের সেম ফ্ল্যাগ বহন করে। তাদেরকেও দেশি প্লেয়ার বলা উচিত।’
বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে ৬৭ ম্যাচে ৩ গোল করেছেন মামুনুল। দেশের প্রায় সব শীর্ষ ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে একসময় ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাব আতলেতিকো ডি কলকাতাতেও নাম লিখিয়েছিলেন মামুনুল, ‘ফুটবল বেঁচে থাকলে মামুন নামটা থাকবে সারাজীবন, আর ফুটবল না থাকলে আমাদের অস্তিত্বও থাকবে না।’