বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরই যেন একজন নায়কের অপেক্ষায় থাকে। যে ফুটবলার নিজের প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব আর পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টের গল্প বদলে দেন। কখনো তিনি দিয়েগো ম্যারাডোনা, কখনো রোনালদো, কখনো লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের গল্প এখনো শেষ হয়নি, কিন্তু এই আসরের অন্যতম প্রধান চরিত্র হয়ে উঠেছেন জুড বেলিংহাম।
ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠেছে, তবে এই পথচলায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নামটি বেলিংহামের। শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষেও একই কীর্তি। দুই ম্যাচে চার গোল করা বেলিংহামের পারফরম্যান্সের সৌন্দর্য শুধু গোলে নয়, ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতায়। নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ড যখন ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিল, তখন তিনিই প্রথম সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে গোল করে নিশ্চিত করেন সেমিফাইনাল। যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে তাঁর উপস্থিতিই ইংল্যান্ডকে নতুন বিশ্বাস দেয়।
এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয় গোল করেছেন বেলিংহাম। নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি ফিরিয়ে এনেছেন ১৯৮৬ সালের স্মৃতি। সেই বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনাও একই কীর্তি গড়েছিলেন। ২৩ বছর বয়সে এমন কৃতিত্ব দেখিয়ে বেলিংহাম জায়গা করে নিয়েছেন পেলের পাশেও। ১৯৫৮ সালে ১৭ বছর বয়সী পেলের পর এত কম বয়সে আর কেউ পারেননি এমন নজির গড়তে।
তবে সংখ্যার বাইরেও বেলিংহামের প্রভাব স্পষ্ট। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ, বলের জন্য লড়াই, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকা প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক খুঁজে নেওয়া—পুরো ম্যাচেই তিনি যেন ইংল্যান্ডের ছন্দ নির্ধারণ করেন। সতীর্থদের খেলাতেও তাঁর আত্মবিশ্বাসের ছাপ পড়ে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে অবশ্য তাঁকে ঘিরে প্রশ্ন কম ছিল না। চোট কাটিয়ে ফিরেছিলেন, প্রথম একাদশে জায়গা নিয়েও ছিল আলোচনা। কিন্তু মাঠে নেমে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন নিজের খেলায়। প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে যেন আরও পরিণত।
এখন সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি, অন্যদিকে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর বেলিংহাম। দুই প্রজন্মের দুই নম্বর টেনের এই লড়াই নির্ধারণ করবে কে খেলবে বিশ্বকাপের ফাইনাল।
বিশ্বকাপের গল্প কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা এখনো অজানা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইংল্যান্ডের স্বপ্ন যত দূর যাবে, সেই পথের কেন্দ্রে থাকবেন জুড বেলিংহাম।