বিশ্বকাপ শুরু হতে দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত দলগুলো। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে একের পর এক চোটের খবরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির। সবশেষ চোটের তালিকায় যোগ হয়েছে দলটির তারকা মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের নাম।
ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন পারেদেস। পরীক্ষায় সেখানে টিয়ার ধরা পড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তিনি খেলতে পারবেন না। বিশ্বকাপের আগে চোটে আক্রান্ত খেলোয়াড়দের তালিকাও আরও দীর্ঘ হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরে। ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ম্যাচে বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথার লক্ষণ নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তবে পরবর্তী পরীক্ষায় জানা যায়, কেবল পেশিতে টান পেয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে মেসিকে শতভাগ ফিট রাখতে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে।
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিয়েও কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগ ফাইনালের ওয়ার্ম-আপের সময় তাঁর আঙুলে ছোট একটি ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। যদিও সেই চোটে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। আগামী মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মার্তিনেজের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
মিডফিল্ডার নিকো পাজও আর্জেন্টিনার মেডিকেল দলের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। হেলাস ভেরোনার বিপক্ষে ম্যাচে শক্ত আঘাত পাওয়ার পর তাঁর বাঁ হাঁটুতে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট ইতিবাচক হলেও প্রতিদিন এই ফরোয়ার্ডের শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এদিকে সেন্টারব্যাক ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ধীরে ধীরে সুস্থতার শেষ ধাপে পৌঁছাচ্ছেন। টটেনহ্যামের হয়ে খেলতে গিয়ে ডান হাঁটুর ল্যাটারাল কোল্যাটারাল লিগামেন্টে চোট পাওয়ার ৪৭ দিন পার হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক উন্নতি তাঁকে আশাবাদী করে তুলেছে। একইভাবে হুলিয়ান আলভারেজও সুস্থতার পথে রয়েছেন। এপ্রিলের শেষ দিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে বাঁ গোড়ালিতে মচকেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের আগে আলভারেজের পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি।
নিকোলাস গনসালেসও পেশির চোটে ভুগছেন। এপ্রিলের শেষ দিকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের অনুশীলনে এই চোট পান তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে এজেইজার ট্রেনিং কমপ্লেক্সে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে তাঁর মাঠে নামার সম্ভাবনা খুবই কম। ডিফেন্ডার গনসালো মন্তিয়েল এবং নাহুয়েল মোলিনাও পেশির চোট থেকে ফেরার লড়াই করছেন। তবে মন্তিয়েলের অবস্থা তুলনামূলক বেশি গুরুতর। তার গ্রেড-২ টিয়ার ধরা পড়েছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে মোলিনার গ্রেড-১ টিয়ার হওয়ায় টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে।
চোটের তালিকায় থাকা আরেকটি নাম থিয়াগো আলমাদা। তবে অন্যদের তুলনায় তাঁর সমস্যা কম গুরুতর। দীর্ঘ ও ব্যস্ত মৌসুম শেষে ক্লান্তিজনিত পেশির টানে ভুগছেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলমাদার পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
এতসব অনিশ্চয়তার কারণে বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি করে রেখেছে আর্জেন্টিনা। কোনো খেলোয়াড়কে শেষ মুহূর্তে বাদ দিতে হলে স্কালোনির হাতে বিকল্প হিসেবে থাকছেন সান্তিয়াগো বেলত্রান, আগুস্তিন গিয়াই, নিকোলাস কাপালদো, নিকোলাস ডোমিঙ্গেজ, মাতিয়াস সুলে, ম্যাক্সিমো পেরোনে এবং এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া।
বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন যতই শেষের দিকে যাচ্ছে, ততই বাড়ছে আর্জেন্টিনা শিবিরের উদ্বেগ। তবে স্কালোনির স্বস্তির জায়গা একটাই—দলের বেশিরভাগ তারকাই এখনও বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার দৌড়ে রয়েছেন।