স্কোরকার্ড দেখে অনেক সময় ম্যাচের পুরোটা বোঝা যায় না। এই যেমন অস্ট্রেলিয়া-তুরস্ক ম্যাচের স্কোরকার্ড। ২-০ গোলের জয় দেখে একপেশে মনে হতেই পারে। কিন্তু ভ্যাঙ্কুভারে তুরস্ক আজ যেভাবে একের পর এক আক্রমণ করেছে, সেটা দারুণভাবে সামলেছে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ বিভাগ।
ভোরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল-মরক্কো ১-১ গোলে ড্রয়ের পর এরই মধ্যে দুটি ম্যাচ হয়ে গেছে। দুটিতেই ফল এসেছে। বোস্টনে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে ৩৬ বছর পর জয়ের দেখা পেল। কয়েক ঘণ্টা পর বিশ্বকাপের আরেক ভেন্যু ভ্যাঙ্কুভারে অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে দিল তুরস্ককে।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোল করে অস্ট্রেলিয়া। পল একোন এংলিস্টারের পাস রিসিভ করে তুরস্কের রক্ষণদুর্গ ভেদ করে গোল করেছেন নেস্তোরি ইরানকুন্দা। গোলের পর সাইডলাইনের পতাকার পাশে গিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে উদ্যাপন করেন ইরানকুন্দা।
সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। ২৯ থেকে ৩২ মিনিটের মধ্যে বারবার আক্রমণ করেও তুর্কিরা গোল আদায় করে নিতে পারেনি। কখনো গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ গোল প্রতিহত করেছেন। আবার হ্যারি সুটার, জ্যাকব ইতালিয়ানোর মতো ডিফেন্ডাররাও বাঁচিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াকে। কখনোবা তুরস্কের আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ার গোলবারে লেগে প্রতিহত হয়েছে। প্রথমার্ধ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করে সকারুরা।
দ্বিতীয়ার্ধ তুরস্ক শুরু করে এক বদলি নিয়ে। কেনান ইলদিজের পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় বারিশ আলপার ইলমাজকে। ৪৭ মিনিটে হাকান চালহানোগ্লু অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণদুর্গে ঢুকেও গোল আদায় করতে পারেননি। গোলরক্ষক বিচ তা সামলেছেন। দ্বিতীয়ার্ধেও সকারুর ডিফেন্ডাররা দারুণভাবে প্রতিহত করেছেন তুরস্কের আক্রমণ।
১০ মিনিট পর আরেকবার সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল তুরস্ক। ৫৭ মিনিটে আরদা গুলের গোল প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক বিচ আক্রমণ সামলেছেন দারুণভাবে। ৬৬ মিনিটে গুল আবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
পাল্টা আক্রমণে শেষ মুহূর্তে গোল আদায় করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৭৫ মিনিটে গোলপোস্ট থেকে ২০ গজ দূর থেকে গোল করেন কনর মেটকাফ। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলেই জিতেছে সকারুরা।
তুরস্ককে হারিয়েও ‘ডি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া। গোল ব্যবধান বেশি হওয়ায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়েকে গতকাল সকালে ৪-১ গোলে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৮ জুন সিয়াটলে মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া।