পেশায় তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন—হাড়গোড় জোড়া লাগানোই যাঁর প্রাত্যহিক কাজ। কিন্তু ডাক্তার সৈয়দ সাইফুল ইসলামের মাথার ভেতরে ছোটবেলা থেকেই ঘুরপাক খেত খেলাধুলা নামক ‘পোকা’।
গত পরশু বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৩ ম্যাচ হাতে থাকতেই বাংলাদেশ ফুটবল লিগে খেলা নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম সিটি এফসি। ১৫ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা ক্লাবটির জন্মই হয়েছে ১৬ বছর আগে। মনের খোরাক মেটাতে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেন সাইফুল ইসলাম। যদিও তখন নাম ছিল চট্টগ্রাম বয়েজ।
সাফল্যের এই পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ঢাকার আশিয়ান সিটিতে ভাড়া করা মাঠে ক্যাম্প করে মশার কামড় সহ্য করে দিনরাত এক করেছেন ফুটবলাররা। সভাপতি সৈয়দ সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে ঝরছিল খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে মশার কথা তো জানেন। খুব কষ্ট করে থাকতেছে ওরা। বেশির ভাগই তো চট্টগ্রামের খেলোয়াড়। কাল (পরশু) প্রমোশন পাওয়ার পর সারা রাত ওরা আনন্দ করেছে, গান গেয়েছে।’
চট্টগ্রামের সদরঘাটে অবস্থিত ক্লাবটি পেশাদারির গুরুত্ব দিয়েই এবার সরাসরি খেলেছে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাজিমউদ্দিন বলেন, ‘সবাইকে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দিয়েছি। আগে প্রিমিয়ার লিগ খেলেছে এমন খেলোয়াড়ও আছে আমাদের।’ চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুলের মাঠে প্র্যাকটিস করা এই দলটি ফেডারেশনের অডিট এবং ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের কঠোর সব শর্ত মেনেই আজ এই পর্যায়ে।
সাইফুল ইসলামের পরিকল্পনা কেবল ছেলেদের লিগেই সীমাবদ্ধ নয়। পটিয়াতে তাঁর একটি নিজস্ব নারী ফুটবল দলও রয়েছে। সামনের ‘একাডেমি কাপ’ দিয়ে সেই মেয়েদেরও বড় মঞ্চে আনতে চান তিনি। ক্রিকেটে স্পনসরশিপ দিয়ে শুরু করলেও এখন তাঁর ধ্যানজ্ঞান শুধুই ফুটবল।
বাংলাদেশ ফুটবল লিগে বিশাল খরচের কথা মনে করিয়ে দিতেই নির্লিপ্ত হেসে এই চিকিৎসক সংগঠক বললেন, ‘পরিবার থেকে চলে যায়, পকেট থেকে চলে যায়। এটা স্রেফ মনের খোরাক আর কি!’
শীর্ষ পর্যায়ে টিকে থাকা যে সহজ নয়, তা ভালো করেই জানেন ক্লাব-সংশ্লিষ্টরা। তবে সাইফুল ইসলাম এখনই পিছু হটতে রাজি নন। বড় দল গড়ার জন্য ইতিমধ্যে ফান্ড ম্যানেজ করার কাজ শুরু করেছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য পরিষ্কার—চট্টগ্রামের ফুটবলকে টেকসই এক ভিতের ওপর দাঁড় করানো।