বিশ্বকাপে বেশ ছন্দে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। টানা তিন ম্যাচে পেয়েছেন গোলের দেখা। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর জোড়া গোল ব্রাজিলকে এনে দেয় ৩–০ গোলের দাপুটে জয়। এর মধ্যে একটি গোল ছিল হেডে। যা খানিকটা বিস্ময়ের জন্ম দেয়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের ক্রসে ভিনির হেড খুঁজে নেয় জাল। এমন গোল করতে সচরাচর ভিনিকে দেখা যায় না।
তবে এর পেছনেও আছে গল্প। হেডে গোল করার জন্য ভিনিসিয়ুসকে খানিকটা উসকে দিয়েছিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। টানা তৃতীয়বার ম্যাচসেরা হওয়ার পর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড বলেন, ‘গোল করে দলকে সাহায্য করতে পেরে আমি আনন্দিত। আজ আমি হেডেও গোল করেছি। মজার ব্যাপার হলো, কোচ আনচেলত্তিকে আমি এই গোলটি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, হেডে গোল করা আমার জন্য একপ্রকার অসম্ভব (হাসি)! এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, গোল করতে পারলে তিনি আমাকে একটি বিশেষ উপহার দেবেন।’
দুই বছর পর হেডে গোল করলেন ভিনিসিয়ুস। শেষবার ২০২৪ সালের ২ মার্চ ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি এভাবে গোল করেছিলেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর চতুর্থ গোল। এই গোলের মাধ্যমে ভিনিসিউস শুধু কোচের বাজিই জেতেননি, বরং নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। ২০০২ বিশ্বকাপে বিখ্যাত ‘ফেনোমেনন’ রোনালদোর পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের টানা তিন ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। গোল সংখ্যায় তিনি এখন আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র ১ গোল পিছিয়ে আছেন।
দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট ভিনিসিউস বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় এটিই ছিল আমাদের সবচেয়ে নিখুঁত ম্যাচ। প্রথম পর্বের ম্যাচগুলো টুর্নামেন্টের ধরন বুঝতে এবং ঘাটতিগুলো শুধরে নিতে সাহায্য করে। প্রথম ম্যাচের পর আমরা খুব ভালো দুটি ম্যাচ খেলেছি, যা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে সবসময় মাটিতে পা রেখেই সামনে এগোতে হবে।’
নকআউট পর্বের প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন ভিনিসিয়ুস, ‘প্রতিপক্ষ বেছে নেওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। যে দলই সামনে আসুক না কেন, আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’