বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য এর চেয়ে হতাশার প্রথমার্ধ হয়তো কল্পনা করাও কঠিন। গোল হজম, পেনাল্টি মিস, পোস্টে লেগে ফিরে আসা শট—সবকিছুর মাঝেও সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্যে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে মিসর।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল অনেকটাই সতর্ক। প্রথম কয়েক মিনিটে দুই দলই মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ খুঁজে নেওয়ার আগেই আঘাত হানে মিসর।
১৫তম মিনিটে ডান দিক থেকে মারাওয়ান আতিয়ার নিখুঁত ক্রসে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে উঠে আসেন ইয়াসের ইব্রাহিম। তাঁর শক্তিশালী হেডে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের কিছুই করার ছিল না। প্রথম সুযোগ থেকেই এগিয়ে যায় মিসর।
গোল হজমের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। ২১ মিনিটে সমতায় ফেরার সোনালি সুযোগও আসে। বক্সের ভেতরে ফাউলের পর পেনাল্টি পায় লিওনেল স্কালোনির দল। স্পটকিকে দাঁড়ান লিওনেল মেসি। কিন্তু তাঁর নিচু শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন শোবেইর। সেই সেভে শুধু দলকেই এগিয়ে রাখেননি, মেসির নামের পাশেও যুক্ত করেন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। বিশ্বকাপে আটটি পেনাল্টির মধ্যে চারটিতেই ব্যর্থ হলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পাশাপাশি টাইব্রেকার বাদে এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলারও তিনি।
পেনাল্টি মিসের ধাক্কা কাটিয়ে আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ২৮ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের ক্রসে আলেক্সিস মাক আলিস্তারের হেড আবারও রুখে দেন শোবেইর। এক মিনিট পর এনসো ফের্নান্দেসের দূরপাল্লার শট আটকে যায় মিসরের রক্ষণে।
৩১ মিনিটে আর্জেন্টিনা প্রায় গোল দেখেই ফেলেছিল। ফ্রি-কিক থেকে মেসির বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শট শোবেইরকে পরাস্ত করলেও বল আঘাত হানে বাঁ পোস্টে। ভাগ্যও যেন মুখ ফিরিয়ে নেয় আর্জেন্টিনার। এরপরও চাপ ধরে রাখে স্কালোনির দল। ৩৯ মিনিটে নিকোলাস তালিয়াফিকোর পাস থেকে হুলিয়ান আলভারেসের কাছ থেকে আসা জোরালো শটও দারুণভাবে সামলে দেন শোবেইর। সেই সেভ করতে গিয়ে কিছুটা চোট পেলেও চিকিৎসা নিয়ে আবার মাঠে ফেরেন তিনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মেসির পাস থেকে আলভারেসের আরেকটি দূরপাল্লার চেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
প্রথম ৪৫ মিনিটের গল্পটা তাই এক কথায় শোবেইরের। ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মিসরের গোলরক্ষক একের পর এক সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেছেন। আর সুযোগ নষ্ট, পেনাল্টি মিস ও পোস্টে বল লাগার আক্ষেপ নিয়েই বিরতিতে যেতে হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।