বাংলাদেশ ফুটবল লিগে অদ্ভুত ঘটনার ঘটে থাকে হরহামেশা। আজ যা ঘটল তাতে অদ্ভুত বলাটাও হয়তো সমীচিন হবে না। আরামবাগ–ব্রাদার্সের খেলায় চাপে পড়ে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলালেন দুবার। খেলাও বন্ধ থাকল প্রায় ১৪ মিনিটের মতো। এমন ঘটনা শেষ কবে ঘটছে তা বলা মুশকিল।
মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে উত্তেজনা শুরু হয় ম্যাচের ৩২ মিনিটে। মাঝমাঠে আরামবাগের ঘানাইয়ান ফুটবলার কোয়ামে কিজিতোকে মাটিতে ফেলে দেন ব্রাদার্সের ইব্রাহিমা বারি। যদিও রেফারি বিতু রাজ বড়ুয়া ফাউলের বাঁশি বাজাননি। তবে কিজিতো ছিলেন বেশ ক্ষুব্ধ। মাটি থেকে উঠে দৌড়ে গিয়ে ইব্রাহিমাকে ধাক্কা দেন তিনি। তাতে মাটিতে পড়ে যান ইব্রাহিমা।
রেফারি তৎক্ষণাত হলুদ কার্ড দেন কিজিতোকে। পরে সাইডলাইন থেকে চতুর্থ রেফারি সাইমুন হাসানের পরামর্শে নিজের সিদ্ধান্ত বদলান বিতু রাজ। লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দেন কিজিতোকে। ঘানাইয়ান এই ফরোয়ার্ড সিদ্ধান্ত মেনে মাঠ থেকে বের হলেও মানতে পারেননি আরামবাগের কোচিং স্টাফরা। রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে না খেলার হুমকিও দেয় তারা। এক পর্যায়ে আরামবাগের সব খেলোয়াড় মাঠ থেকে উঠে আসেন।
সহকারী রেফারিদের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলোচনা করার পর কিজিতোর লাল কার্ডে সিদ্ধান্ত উঠিয়ে আবার হলুদ কার্ড দেন বিতু রাজ। তাঁর এমন ‘ইউটার্নে’ অবাকই হন ব্রাদার্স অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। গোলমালের কারণে প্রথমার্ধে ৪৫ মিনিট শেষে আরও যোগ করা হয় ১৫ মিনিট।
ফিফার আইনের ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, রেফারি কেবল তখনই তার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন যদি তিনি নিজে বুঝতে পারেন যে সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। অথবা তাঁর সহকারীদের (লাইন্সম্যান বা ফোর্থ অফিসিয়াল) সঙ্গে আলোচনার পর নিশ্চিত হন যে সিদ্ধান্ত বদলানো দরকার।
ভিএআরের যুগে, রেফারির সিদ্ধান্ত বদলের ঘটনা অহরহ। তবে সেটা ভিডিও দেখে করা হয়। বাংলাদেশ ফুটবল লিগ অবশ্য এখনো ভিএআরের মুখ দেখেনি। তবে এভাবে সিদ্ধান্ত বদলের ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে দেখা যায়নি।
বিতর্কের পর ম্যাচটি ড্র হয় ২–২ গোলে। ব্রাদার্স অবশ্য শুরুতে পিছিয়ে যায়। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ ও ৮০ মিনিটে দুই গোল করে সমতা ফেরায় তারা। দিনের আরেক ম্যাচে কুমিল্লায় পিছিয়ে পড়েও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ২–১ গোলে হারিয়েছে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংস।